জাতীয়

রিকশাচালকদের অবরোধ : ছাড় পাচ্ছে না অসুস্থরাও

অসুস্থ স্ত্রীকে ডাক্তার দেখানোর জন্য মালিবাগ রেলগেট মোড়ে একটি বেসরকারি হাসপাতালে যাচ্ছিলেন কাঁচামালের ব্যবসায়ী মো. হারুন। রামপুরার বাসার সামনে থেকে কোনো রকমে একটি রিকশা নিয়ে সকাল ১০টায় রওনা দেন তিনি। কিন্তু আবুল হোটেলের মোড়ে আসতেই অবরোধকারীরা রিকশা আটকে দেন। অবরোধকারীদের কাছে কাকুতি মিনতি করেও ছাড়া পাননি তিনি। ফলে বাধ্য হয়ে অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে হেঁটেই হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা দেন হারুন।

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ তিন সড়ক থেকে রিকশা তুলে দেয়ার প্রতিবাদে মালিবাগ রেলগেট, আবুল হোটেল মোড়ে রিকশাচালকদের অবরোধের কারণে হারুনের মতো অনেকেই ভোগান্তিতে পড়েছেন। অবরোধকারীদের হাত থেকে সাধারণ মানুষ যেমন রেহাই পাচ্ছেন না, তেমনি রেহাই পাচ্ছে না শিক্ষার্থীর পাশাপাশি অসুস্থরাও।

ভোগান্তির বিষয়ে হারুন জাগো নিউজকে বলেন, অসুস্থ স্ত্রীকে ডাক্তার দেখানোর জন্য রামপুরার বাসা থেকে রিকশায় আসছিলাম। কিন্তু আবুল হোটেলের সামনে আসার পরই রিকশা আটকে দেয়া হলো। অসুস্থ স্ত্রীর কথা বলে হাত ধরে মিনতি জানিয়েও ছাড়া পাইনি। ফলে বাধ্য হয়ে অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে হেঁটেই ডাক্তারের কাছে যাচ্ছি। বাসায় যাওয়ার সময় কী হবে বুঝতে পারছি না।

কাকরাইলে একটি হাসপাতালে যাওয়ার জন্য খিলগাঁও থেকে বের হন অসুস্থ ফাতেমা। রাস্তায় তাকেও আটকে দেন অবরোধকারীরা। মালিবাগ মোড়ে এসে তার রিকশা আটকে দেয়া হয়। নিরুপায় হয়ে অসুস্থ ফাতেমাকে রেলগেট মোড়ের একটি দোকানের সিঁড়িতে বসে থাকতে দেখা যায়।

অসুস্থ এ নারী বলেন, ডাক্তার দেখানোর জন্য বাসা থেকে বের হয়েছিলাম। কিন্তু এখানে আসতেই আটকে দেয়া হলো। আমি অসুস্থ মানুষ। হাঁটতে পারছি না। রিকশায় বাসায় ফিরে যাব তাও যেতে দেয়নি। তাই বাধ্য হয়ে এখানে বসে আছি। আমার স্বামীকে ফোন করছি, সে এসে আমাকে নিয়ে যাবে।

হারুন, ফাতেমার মতো সেগুনবাগিচা থেকে বাড্ডা যাওয়ার পথে ভোগান্তিতে পড়েন জসিম উদ্দিন। পরিবার নিয়ে তিনি সিএনজিতে বাড্ডার একটি হাসপাতালে আত্মীয়কে দেখতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু রেলগেট মোড়ে আসতেই অবরোধকারীরা তাদের সিএনজি আটকে রাস্তায় নামিয়ে দেন।

জসিম উদ্দিন বলেন, রিকশাচালকরা যা করছে তা অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি। প্রশাসনের উচিত এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া। অসুস্থ মানুষকে হাসপাতালে যেতে দেয়া হচ্ছে না, এটা কোনো মানুষের আচরণের মধ্যে পড়ে না।

এমএএস/এএইচ/পিআর