মতামত

মূল্যবৃদ্ধির খড়গ, দেখার কেউ নেই?

হঠাৎ করেই দাম বৃদ্ধির হিড়িক পড়েছে। নিত্যপণ্য থেকে শুরু করে জীবনরক্ষাকারী ওষুধেরও দাম বাড়ছে হু হু করে। এসব দেখার যেন কেউ নেই। মূল্যবৃদ্ধির ফলে মানুষজন দুর্ভোগে পড়বে আর কর্তৃপক্ষ তাকিয়ে তাকিয়ে দেখবে এটি হতে পারে না। জনদুর্ভোগ লাঘবে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেয়া জেরুরি।

কদিন আগেই বাড়ছে গ্যাসের দাম। এখন নিত্যপণ্যের বাজারেও আগুন। বেড়েছে পেঁয়াজ, ডিমসহ অনেক নিত্যপণ্যের দাম। ৯৫ টাকা ডজন ডিমের দাম হয়েছে ১২০ টাকা। অন্যদিকে জীবন রক্ষাকারী ওষুধের দামও বেড়েছে। উচ্চ রক্তচাপের জন্য ব্যবহৃত বাইজোরান ট্যাবলেটেরে এক পাতার দাম ছিল ১৪০ টাকা। এখন তা বেড়ে ১৮০ টাকা হয়েছে। একইভাবে বেড়েছে অন্য ওষুধের দামও।

মূল্যবৃদ্ধির জন্য নানা অজুহাত দেখানো হচ্ছে। কিন্তু পেঁয়াজের পর্যাপ্ত মজুদও রয়েছে। তাই দাম বাড়ার বিষয়টি কোনোভাবেই যুক্তিযুক্ত হতে পারে না। এমনিতেই দ্রব্যমূল্য নাগালের বাইরে, তার ওপর নতুন করে দাম বাড়ায় যেন বাজ পড়ছে ভোক্তাদের মাথায়। প্রশ্ন হচ্ছে, এগুলো দেখার কি কেউ নেই?

কথায় আছে, দুর্জনের ছলের অভাব হয় না। একশ্রেণির মুনাফালোভী ব্যবসায়ীর লাভ ও লোভের কারণেই যে এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সেটি বলার অপেক্ষা রাখে না। মুনাফালোভী এই মানসিকতা কিছুতেই কাম্য হতে পারে না। মুক্তবাজার অর্থনীতিতে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্র নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা সরকারের হাতে খুব একটা নেই। তারপরও টিসিবিকে কার্যকর করে একটি প্যারালাল সরবরাহ ব্যবস্থা চালু রেখে পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখা যায়।

যে কোনো উসিলায় দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে আইন-কানুন নীতি-নৈতিকতার কোনো বালাই নেই এখানে। ভোক্তাদের পকেট কাটা হবে আর সরকার শুধু চেয়ে চেয়ে দেখবে এটা হতে পারে না। বাজারে নজরদারি বাড়ানো এবং সিন্ডিকেটধারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। অবিলম্বে নিত্যপণ্য ও জীবনরক্ষাকারী ওষুধের মূল্য জনসাধারণের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসতে যার যা করণীয় রয়েছে সেটি করতে হবে। এজন্য সরকার-ব্যবসায়ী সব পক্ষকেই এগিয়ে আসতে হবে। ত্যাগ করতে হবে মুনাফালোভী মানসিকতা।

এইচআর/এমএস