মতামত

হত্যা-ধর্ষণ বন্ধ করুন

হত্যা-ধর্ষণ এখন নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটা খুবই উদ্বেগের বিষয়। যে কোনো মূল্যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে জননিরাপত্তা। এবার কুমিল্লার দেবীদ্বারে দিনেদুপুরে মা-ছেলেসহ চারজনকে কুপিয়ে হত্যা করেছে মোখলেসুর রহমান (৩৪) নামে এক যুবক। এ ঘটনায় গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন ঘাতক মোখলেসুর রহমান। গতকাল বুধবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- রাধানগর গ্রামের মো. শাহ আলমের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (৪০), ছেলে আবু হানিফ ( ১২), একই গ্রামের নুরুল ইসলামের স্ত্রী নাজমা আক্তার (৩৬) ও মা মাজেদা বেগম (৫৫)। ঘাতক মোখলেসুর রহমান একই গ্রামের মর্তুজা আলীর ছেলে।

পূর্ব শত্রুতার জের ধরে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ঘাতক মোখলেসুর রহমান প্রতিবেশী আনোয়ারা বেগম, হানিফ, নাজমা বেগম ও মাজেদা বেগমসহ ৬/৭ জনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। এতে আনোয়ারা বেগম, হানিফ ও নাজমা বেগম ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ ঘটনায় আহত মাজেদা বেগমসহ অন্যদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মাজেদা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্য আহতরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বরগুনায় কুপিয়ে রিফাত হত্যার জের না কাটতেই আবারো ঘটলো এমন পৈশাচিক ঘটনা। জননিরাপত্তা এখন কোথায় গিয়ে ঠেকেছে সেটি ভাবনার বিষয়। সমাজে কেন মানুষজন এতটা হিংস্র ও পাশবিক হয়ে উঠছে সেটি খতিয়ে দেখতে হবে। অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে সবার আগে। কুমিল্লার হত্যাকারী মোখলেসুর রহমান মাদকাসক্ত ছিল-এমনটি বলছে পুলিশ। মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা খুনি হয়ে উঠছে সেটিও অত্যন্ত ভয়াবহ ব্যাপার।

মাদক তার বিষাক্ত ছোবলে শেষ করে দিচ্ছে তারুণ্যের শক্তি ও অমিত সম্ভাবনা। শুধু শহরেই নয়, গ্রামেও ছড়িয়ে পড়েছে মাদক। তার বিষাক্ত ছোবল শেষ করে দিচ্ছে তারুণ্যের শক্তি ও অমিত সম্ভাবনা। ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবনের অবক্ষয়, প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তির অসামঞ্জস্যতা, হতাশা এবং মূল্যবোধের অভাবের সুযোগ নিয়ে মাদক তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে তরুণ সমাজের প্রতি। বেকারত্বও মাদকের বিস্তারে সহায়ক-এমন কথাও বলছেন বিশ্লেষকরা। এই মরণ নেশার বিস্তারে সমাজে একদিকে যেমন অপরাধ বাড়ছে, তেমনিভাবে নষ্ট হচ্ছে সামাজিক শৃঙ্খলা। এই অবস্থা চলতে থাকলে একটি সমাজের অন্ধকারের অতল গহ্বরে হারিয়ে যেতে খুব বেশি সময় লাগবে না।

মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে হলে মাদকদ্রব্যের প্রাপ্তি সহজলভ্য যাতে না হয় সেটি নিশ্চিত করতে হবে। যে কোনো মূল্যে ঠেকাতে হবে মাদকের অনুপ্রবেশ। দেশেও যাতে মাদকদ্রব্য উৎপাদন হতে না পারে সে ব্যাপারেও পদক্ষেপ নিতে হবে। দুঃখজনক হচ্ছে, মাঝে-মধ্যে ছোটখাট মাদক কারবারী ও মাদকের চালান ধরা পড়লেও তাদের মূল কুশীলবরা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। অভিযোগ রয়েছে, সমাজের প্রভাবশালী অনেক ব্যক্তিবর্গ এসব সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত থাকায় তাদের টিকিটি স্পর্শ করতে পারে না আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এই অবস্থার পরিবর্তন জরুরি।

সমাজ থেকে মাদকসহ সব ধরনের অপতৎপরতা বন্ধ করতে হবে। মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় দিতে হবে সর্বোচ্চ মনোযোগ।

এইচআর/জেআইএম