দেশজুড়ে

২৫ ঘণ্টা পর লাইনচ্যুত ওয়াগন উদ্ধার, ট্রেন চলাচল শুরু

প্রায় ২৫ ঘণ্টা পর রাজশাহীর চারঘাটে লাইনচ্যুত তেলবাহী ওয়াগন উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে উদ্ধার কাজ শেষ হয়। উদ্ধারকাজ শেষে শুরু হয় ট্রেন চলাচল। তবে সব ট্রেনই বেশ কয়েক ঘণ্টা করে শিডিউল বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে।

এর আগে বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজশাহীগামী তেলবাহী আটটি ওয়াগন লাইনচ্যুত হয়। এরপর রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের রেলযোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

রাত ১০টার দিকে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক খোন্দকার শহীদুল ইসলাম বলেন, রাত পৌনে ১০টার দিকে লাইনচ্যুত তেলবাহী ট্রেনটিকে লাইনে উঠানো হয়েছে। এর এক ঘণ্টা পর ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামত হলে যাত্রীবাহী ট্রেনের চলাচল শুরু হয়।

তিনি বলেন, খারাপ আবহাওয়া, তেলবাহী ট্রেনের পূর্ণ লোড এবং রেলট্র্যাকের ভয়াবহ ক্ষতির কারণে ২৫ ঘণ্টা সময় লেগেছে রেল যোগাযোগ সচল করতে। বিরতিহীন আন্তরিক কাজের মাধ্যমে এই বড় সফলতা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। যাত্রীবাহী ট্রেনের যাত্রীর কাছে তাদের দুর্ভোগের জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন জিএম।

এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় ঈশ্বরদী থেকে ছেড়ে আসা তেলবাহী ওয়াগনের আটটি বগি রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার দিঘলকান্দি এলাকায় লাইনচ্যুত হয়। এতে রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের রেলযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

তবে ওই রাতেই ঈশ্বরদী থেকে রিলিফ ট্রেন এসে উদ্ধার কাজে যোগ দেয়। এরপর সারাদিন ধরে একটি একটি করে ওয়াগন লাইনে তোলা হয়। একই সঙ্গে ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়া রেললাইন মেরামত করা হয় দ্রুতগতিতে।

এদিকে এ দুর্ঘটনায় পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রশিদকে তাৎক্ষণিক সাময়িক বরখাস্ত করে কর্তৃপক্ষ। ঘটনা তদন্তে রেলওয়ের প্রধান পরিবহন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুনকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটিকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার আবদুল করিম জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল পদ্মা ট্রেনের। কিন্তু শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে ট্রেনটি রাত ১১টার পর ছেড়ে যায়। এভাবেই প্রতিটি ট্রেন আপাতত শিডিউল বিপর্যয়ের মধ্যেই চলবে।

ফেরদৌস সিদ্দিকী/বিএ