জাতীয়

সেই পাইলট হলেন বিমানের ফ্লাইট অপারেশন পরিচালক!

জুনিয়র ও বিতর্কিত পাইলটকে ফ্লাইট অপারেশন পরিচালক-ডিএফও-এর (ভারপ্রাপ্ত) দায়িত্ব দেয়ায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পাইলটদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

বিমানের অপারেশন ম্যানুয়াল না মেনেই কমপক্ষে ৫০ জন যোগ্য ও সিনিয়র পাইলটকে বাদ দিয়ে ক্যাপ্টেন মাহতাব নামে এক পাইলটকে ডিএফও পদে বসানো হয়েছে বলে অভিযোগ পাইলট সমাজের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সিনিয়র পাইলট জাগো নিউজকে বলেন, বর্তমানে চিফ অব টেকনিক্যাল পদে থাকা নিয়ে বিতর্কে আছেন এমন এক পাইলটকে ডিএফও’র দায়িত্ব দেয়া কিছুতেই ঠিক হয়নি। বর্তমান পদেই তিনি বিতর্কিত। বিতর্কিত ব্যক্তিকে এখন আরও বড় পদে বসিয়ে দেয়া হল।

‘২০১০ সালে ক্যাপ্টেন মাহতাব ছিলেন বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পাইলট অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক। সে সময়ে বিমান পরিচালনা পর্ষদ পরিচালক প্রশাসন আমিনুল হককে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে চাকরিচ্যুত করেন। এর জের ধরে ও ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতার কারণে ক্যাপ্টেন মাহতাব বাপার প্রভাব খাটিয়ে আন্দোলনের ডাক দেয়। এক পর্যায়ে বর্তমান সরকারকেই বেকায়দায় ফেলতে এয়ারলাইন্স বন্ধের ডাক দেয়। ওই সময় টানা ১০ দিন বিমানের অপারেশন বন্ধ ছিল। অচল ও স্থবির হয়ে পড়ে বিমান। ওই সময় হজ মৌসুম ছিল বলে চরম বেকায়দায় পড়ে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। এতে বিমান ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। ঘটনার ৮ বছর পর বিতর্কিত সেই ক্যাপ্টেন মাহতাবকে ডিএফও বানানো হলো।’

ওই পাইলট বলেন, আন্দোলনে বাধা দেয়ার কারণে ক্যাপ্টেন মাহতাব তার প্যানেলের সভাপতি আলী আশরাফ খানসহ আরও দুই সদস্যের সদস্যপদ বাতিল করেন। যে কারণে ক্যাপ্টেন মাহতাব এর ওপর পাইলট সমাজ এখনও ক্ষুব্ধ। জানা যায়, হজ মৌসুমে ধর্মঘট করে বিমান তথা সরকারের ভাবমূর্তি নষ্টের কারণে পরবর্তীতে ক্যাপ্টেন মাহতাব ও ক্যাপ্টেন শাহ আলমকে (বর্তমানে কাতার এয়ারওয়েজ কর্মরত) বিমান থেকে চার্জশিট দেয়া হয়। ক্যাপ্টেন শাহ আলম সম্প্রতি বিমানের এমডি পদের জন্য দরখাস্ত জমা দিয়েছেন।

তৎকালীন আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে ক্যাপ্টেন শাহ আলমকে জিএম প্লানিং পদে থেকে সরিয়ে নেয়া হয়। এমন বিতর্কিত ব্যক্তি কীভাবে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে নিয়োগ পেতে দরখাস্ত করেন। এটি এখন বিমানে আলোচ্য বিষয়।

অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ক্লিন ইমেজের পাইলটদের বাদ দিয়ে অজ্ঞাত কারণে নিয়ম নীতির বাইরে গিয়ে অভিযুক্তদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বসানো হলে বিমান আবারও ইমেজ সংকটে পড়তে পারে।

এ বিষয়ে বিমানের পরিচালক প্রশাসন জিয়াউদ্দিন আহমেদকে ফোন দেয়া হলে তিনি এ বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হননি।

এক সিনিয়র পাইলট নাম না প্রকাশের শর্তে জানান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ডিএফও হতে অপারেশন ম্যানুয়ালের ২.১.৪.১ অনুচ্ছেদের 'সি' ধারায় স্পষ্ট বলা আছে "বি এ পাইলট হেভিং মাস্টবি এবাভ ফিফটি ইয়ারস অব এজ"।

ক্যাপ্টেন মাহতাবের বয়স এখনও ৫০ হয়নি। এছাড়া তার সিনিয়র আছে অন্তত ৫০ জন।

এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মহিবুল হক জাগো নিউজকে বলেন, এমনটি ঘটার কথা না, অযোগ্য ও বিতর্কিত কাউকে বিমানের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেয়ার কথা নয়, আমি বিষয়টি জানি না, আগে জেনে নেই তারপর মন্তব্য করব।

অভিযোগের বিষয়ে ক্যাপ্টেন মাহতাবকে মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

আরএম/জেএইচ/পিআর