অর্থনীতি

প্রয়োজনে খোলাবাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করবে সরকার

পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধিতে চিন্তার কোনো কারণ নেই জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, প্রয়োজনে খোলাবাজারে টিসিবির মাধ্যমে পেঁয়াজ বিক্রি করা হবে।

তিনি বলেন, গতকাল সোমবার টিসিবির সাথে এ বিষয়ে কথা বলেছি। বাজার মনিটর করা হবে, যদি প্রয়োজন হয় টিবিসির মাধ্যমে পেঁয়াজ বিক্রির ব্যবস্থা করবো। তবে আমরা দেখতে চাচ্ছি দামটা কমে আসে কিনা। আমরা আশাবাদী কমে আসবে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রফতানি আয়ে লক্ষ্যমাত্রার অতিরিক্ত অর্জন উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এসব কথা বলেন। এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মফিজুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব তপন কান্তি ঘোষসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চিন্তার কোনো কারণ নেই। কয়েক দিন ধরে আমরা কথা বলছি। যে দুটি পয়েন্টে ভারত থেকে পেঁয়াজ আসে, সেটা প্রতিদিন যেভাবে আসতো তার থেকে কমে আসছে। আরেকটি খবর নিতে বলেছি, পেঁয়াজ রফতানিতে ভারত যে ১০ শতাংশ ইনেসনটিভ দিতো, সেটা নাকি তারা তুলে নিয়েছে। তাছাড়া দুষ্ট ব্যবসায়ীরা সব সময় সুযোগ খোঁজে।

তিনি বলেন, সামনে কোরবানি ঈদ। পেঁয়াজ, আদা ও মসলার মূল্যবৃদ্ধির টেনডেন্সি (প্রবণতা) লক্ষ্য করছি। এটার পেছনে বিশেষ করে ভারত থেকে আসে তা স্লো হয়ে আছে, বৃষ্টির জন্যও কিছু প্রভাব পড়েছে। তারপরও আমরা খুব আশাবাদী যে, আমরা দামটা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবো।

২০২১ সালের মধ্যে ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রফতানির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করতে পারবো বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। অন্যান্য আইটেম রফতানি বাড়ানোর জন্য উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। কিছু কিছু আইটেম যেমন লেদার খারাপ হয়েছে, তবে বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। চাল রফতানির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে প্রায় ২ লাখ টন।

এছাড়া রফতানি বাণিজ্যকে সহজীকরণ ও রফতানিকারকরা বিভিন্নভাবে প্রণোদনা ও সহযোগিতার মাধ্যমে বর্তমান সরকার দেশের রফতানি বৃদ্ধিতে একাগ্রচিত্তে কাজ করে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আমি ব্যবসায়ী সমাজ এবং সাংবাদিক ভাই-বোনদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি। আপনাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রফতানি প্রবৃদ্ধির এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রফতানি আয়ের দেশভিত্তিক বিশ্লেষণে আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এ যাবৎকালে সর্বোচ্চ রফতানি হয়েছে ৬ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন ডলার, যা বিগত বছরের তুলনায় ১৪ দশমিক ৯২ শতাংশ বেশি। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নে ২২ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার রফতানি হয়েছে এবং প্রবৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ১৩ শতাংশ।

বাণিজ্য সচিব বলেন, মূল গন্তব্য আমেরিকা এবং ইউরোপ হলেও এশিয়ার দেশগুলোতে বর্তমান অর্থবছরে উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। যেমন- জাপানে মোট রফতানি এক দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলার এবং প্রবৃদ্ধির হার ২০ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সেবা খাতে এ বছর মোট রফতানির পরিমাণ ৫.৮৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং প্রবৃদ্ধির হার ৩২.৩৪ শতাংশ। গত বছরে (২০১৭-১৮) সেবা খাতে রফতানির পরিমাণ ছিল ৪.৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ অর্থবছরের প্রধান রফতানি খাত তৈরি পোশাক হতে রফতানির পরিমাণ ৩৪.১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা মোট রফতানির ৮৪.১৮ শতাংশ এবং এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১.৫ শতাংশ। ওভেন খাতে রফতানি আয়ের পরিমাণ ১৭.২৪ বিলিয়ন সার্কিন ডলার এবং নীট খাতে ১৬.৮৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

এ অর্থবছরের উল্লেখযোগ্য সাফল্য হচ্ছে, কৃষিজপণ্য রফতানি খাতে রফতানির মোট পরিমাণ ৯০৮.৯৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং প্রবৃদ্ধি হার ৩৪.৯২ শতাংশ। যদিও চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধির হার হ্রাস পেয়েছে, তারপরও উক্ত খাতে মোট রফতানির পরিমাণ ১.০২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানির প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক হলেও ওষুধ, প্লাস্টিক পণ্য, বিশেষায়িত টেক্সটাইল, আসবাবপত্র ইত্যাদি খাতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

এমইউএইচ/এমএসএইচ/পিআর