জাতীয়

মাংস-দুধ-ডিমের জীবাণু থেকে রক্ষায় প্রকল্প

১৭ হাজার অণুজীবের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই মানবদেহে সংক্রমিত হয় বিভিন্ন প্রাণীর মাধ্যমে।

প্রাণিজাত খাদ্য- যেমন ডিম, দুধ, মাংস এবং এ থেকে উৎপাদিত খাদ্যপণ্যের মাধ্যমে এসব অণুজীব মানবদেহে প্রবেশ করে, যা নানা ধরনের ক্ষতি করে।

প্রাণিসম্পদের ভেতর থাকা বিভিন্ন প্রকার জীবাণুর ঝুঁকি বা হ্যাজার্ড কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ। এই ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথের উন্নয়নে প্রায় ৭৩ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত এনইসি সম্মেলন কক্ষে ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ সার্ভিস জোরদারকরণ’ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে প্রাণিসম্পদ অধিদফতর। চলতি জুলাই থেকে ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। সরকারি অর্থায়নে এ প্রকল্পে ব্যয় হবে ৭৩ কোটি ২৬ লাখ ৪ হাজার টাকা। ২০১টি উপজেলায় এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতর বলছে, দেশে প্রাণিসম্পদ খাতের গুরুত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে দেশে পরিবারভিত্তিক পশুপালনের বাইরে অনেক পশুখামার গড়ে উঠছে। সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে ছোট বা মাঝারি আকারে দুগ্ধ ও পোল্ট্রি খামারের সম্ভাবনা খুব বেশি। ডিম, দুধ, মাংস ও এসব থেকে উৎপাদিত পণ্যই প্রাণিজ উৎসে প্রধান খাদ্য, যা দৈনন্দিন জীবনে মানুষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হয়। এসব খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, হ্যান্ডেলিং, পরিবহন ও সংরক্ষণ স্বাস্থ্যসম্মতভাবে না করা হলে এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিসহ অর্থনৈতিক ক্ষতি সাধন করে।

এসব সমস্যা সমাধানে এ প্রকল্পের আওতায় ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ অ্যান্ড মাইক্রোবায়োলজি ল্যাবরেটরি নির্মাণ করা হবে।

স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে মাংস প্রক্রিয়াকরণের ওপর ১৫ হাজার জন মাংস বিক্রেতা/কসাইকে প্রশিক্ষণ প্রদান এবং জুনোটিক (প্রাণিজাত খাদ্যে বিভিন্ন প্রকার জীবাণুর উপস্থিতি) রোগ নিয়ন্ত্রণে সার্ভিল্যান্স কার্যক্রম, নমুনা সংগ্রহ, সংরক্ষণ, পরিবহন ও টিকা প্রদান, ইত্যাদি বিষয়ে ২০১ জন ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটরকে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।

চালু করা হবে চারটি গুরুত্বপূর্ণ জুনোটিক রোগ নিয়ন্ত্রণে সার্ভিল্যান্স কার্যক্রম।

নির্বাচিত ২০১টি উপজেলায় গবাদিপশুকে (গরু ও মহিষ) তড়কা রোগের টিকা দেয়া এবং জুনোটিক রোগে আক্রান্ত গবাদিপশুর মৃত্যুর কারণে কৃষক/খামারিদের ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং মৃত গবাদিপশু অপসারণে আর্থিক সাহায্য দেয়া হবে।

এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ জুনোটিক রোগ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নির্বাচিত ২০১ উপজেলায় বিলবোর্ড স্থাপন এবং টিভি ফিলার ও মিডিয়া কাভারেজ ইত্যাদি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে এ প্রকল্পে।

পিডি/জেডএ/পিআর