দেশজুড়ে

বগুড়া যেন ভুতুড়ে নগরী

বগুড়া পৌরসভাসহ জেলার ১২টি পৌরসভার কার্যক্রম রোববার থেকে বন্ধ। এতে পৌরসভার নাগরিকরা কোনো সেবা পাচ্ছেন না। পৌরসভাগুলোতে এখন তালা ঝুলছে। সেবাগ্রহীতারা এসে ফিরে যাচ্ছেন।

পৌরবাসী বলছেন, দিনের পর দিন আন্দোলনের নামে পৌরসভা বন্ধ রেখে পৌরসভার বাসিন্দাদের দুর্ভোগের দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে। পুরো শহর এখন ময়লা-আবর্জনার স্তূপে পরিণত হয়েছে। এ কেমন আন্দোলন তাদের?

জানা যায়, সরকারি কোষাগার থেকে বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য দাবিতে পৌরসভা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঢাকায় একটানা অবস্থান কর্মসূচির কারণে বগুড়ার ১২টি পৌরসভায় তালা দেয়া হয়েছে।

বগুড়া পৌরসভা ভবনে গিয়ে সব অফিসে তালা ঝুলতে দেখা গেছে। প্রধান গেট খুললেও সেখানে কোনো সেবাদানকারীকে পাওয়া যায়নি। এছাড়া মেয়র, কাউন্সিলর ও কর্মকর্তাদের প্রতিটি কক্ষে তালা দেখা গেছে। সবাই ঢাকায় অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বগুড়া পৌরসভার ২১টি ওয়ার্ড। বগুড়া পৌরসভা প্রায় ৭০ বর্গকিলোমিটার। জনসংখ্যা প্রায় ছয় লাখ। গত অর্থবছর বরাদ্দ ছিল ৬৫ লাখ টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বরাদ্দ ৭৭ লাখ টাকা।

কুমিল্লা, সিলেট, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের চেয়ে আয়তনে এবং জনসংখ্যায় বড় বগুড়া পৌরসভা। ‘ক’ শ্রেণির এই পৌরসভায় কার্পেটিং রাস্তা আছে ২২৯ কিলোমিটার। এছাড়া কাঁচা সড়ক, সিসি, আরসিসি, সেলিংসহ অন্যান্য রাস্তা রয়েছে আরও প্রায় ছয়শ কিলোমিটার। সব মিলিয়ে প্রায় নয়শ কিলোমিটারের রাস্ত।

পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্দোলনে থাকায় এসব রাস্তা সংস্কার করা হয়নি। ময়লা-আবর্জনা পড়ে আছে যত্রতত্র। বৃষ্টির কারণে ড্রেনেজ ভর্তি হয়ে গেছে। চাকরি, জমির খাজনা, লাইসেন্স, টিকাদান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সন্তানের জন্মসনদসহ বিভিন্ন সনদ এবং বিভিন্ন সেবা থেকে বঞ্চিত বগুড়ার ১২টি পৌরসভার নাগরিকরা।

শুধু পানি সরবরাহ করছে পৌরসভার নৈশপ্রহরীরা। রাতে শহরের সড়ক বাতি বেশির ভাগ স্থানে বন্ধ থাকে। যেগুলো সচল ছিল বৃষ্টির কারণে সেগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। এ কারণে রাতের বগুড়া শহর দেখলে ভুতুড়ে নগরী মনে হয়।

বগুড়া পৌরসভার গেটম্যান আবুুুল হোসেন বলেন, কোনো কর্মচারী পৌরসভায় আসেন না। সবাই ঢাকায় গেছেন বিভিন্ন দাবি আদায়ের জন্য। কাজ করার মতো কোনো লোক নেই। দিনে কম করে হলেও ৩-৪শ লোক আসছে মেয়র ও কাউন্সিলর এবং কর্মকর্তাদের খোঁজে।

পৌরসভা সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি মামুনুর রশিদ জানান, দাবি আদায়ে আন্দোলনের কথা আমরা সরকারকে আগেই জানিয়েছি। কিন্তু কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়ায় আমরা বাধ্য হয়ে ঢাকায় অবস্থান নিয়েছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

শহর ঘুরে দেখা যায়, প্রথম শ্রেণির বগুড়া পৌরসভার প্রধান সড়ক কবি নজরুল ইসলাম রোডের ড্রেনের এতই বেহাল অবস্থা যে দুর্গন্ধে পথচারী, রিকশা ও মোটরগাড়ির আরোহীদের চলতে হয় নাক চেপে। দোকানিরা গন্ধ সয়ে অসুখ-বিসুখে আক্রান্ত। বন্ধ হওয়া ড্রেনের পানি ও বর্জ্য রাস্তায় ভর্তি।

লিমন বাসার/এএম/এমএস