নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলায় ওয়াকফকৃত জামে মসজিদ ও নুরানী মাদ্রাসার সম্পত্তি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন ( দুদক)।
সমন্বিত জেলা কার্যালয়, নোয়াখালীর সহকারী পরিচালক সুবেল আহমেদের নেতৃত্বে আজ রোববার এ অভিযান পরিচালিত হয়।
দুদক টিম সরেজমিনে গিয়ে রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা দেখতে পায়, সোনাইমুড়ি উপজেলার ৫ নং অম্বরনগর ইউনিয়নের রকিব উদ্দিন মোক্তারবাড়ি সংলগ্ন জামে মসজিদের ১২০ শতাংশ জমির মধ্যে ৬ শতাংশ জমি পুলিশের সাবেক পরিদর্শক আমিররুল ইসলামসহ তিনজন নিজেদের নামে রেকর্ড করিয়ে নিয়েছেন। উক্ত জমিটি ১৯৭৫ সালে ওয়াকফ করা হলেও অদ্যাবধি তালিকাভুক্ত না করে নিজেদের মতো কমিটি দিয়ে পরিচালিত হয়ে আসছে। দুদক টিমের পক্ষ থেকে ওয়াকফ পরিদর্শকের কার্যালয়, নোয়াখালীর কর্মকর্তা আলাউদ্দিনকে ওয়াকফকৃত সম্পত্তি তালিকাভুক্ত এবং আত্মসাৎকৃত সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
দ্রুত তালিকাভুক্ত করা গেলে ২০১৯-২০ অর্থবছরের ওয়াকফ প্রশাসনের চাঁদা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক হবে মর্মে দুদক টিম অভিমত ব্যক্ত করে।
এছাড়াও উক্ত মাদ্রাসায় শিশু শ্রেণি থেকে তৃতীয় শ্রেণি অধ্যয়নরত ছাত্রছাত্রীদের বেতন ও পরীক্ষার বাবদ আদায়কৃত অর্থ, এবং অন্যান্য উৎস, যেমন- দুই ঈদ, কুরবানী ঈদের চামড়ার টাকা, কাফফারা, বিয়ে-শাদী সংগ্রহ, বিদেশিদের অনুদান, বাৎসরিক ধান কালেকশন, শুক্রবারের জুম্মা নামাজকালীন আদায় থেকে প্রাপ্ত আয় আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত চেয়ে কমিশনে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছে দুদক টিম।
এদিকে সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসে ম্যাপ এবং পর্চা বিতরণে ঘুষ-দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করেছে দুদক।
সমন্বিত জেলা কার্যালয়, সিলেট-এর সহকারী পরিচালক মোঃ ইসমাইল হোসেনের নেতৃত্বে আজ এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানকালে দুদক টিম দেখে, উক্ত দপ্তর হতে সরবরাহকৃত সকল সেবা প্রদানে রশিদ ব্যতিরেকে সরকার নির্ধারিত মূল্যের দ্বিগুন অর্থ গ্রহণ করা হয়। উদাহরণস্বরূপ- ম্যাপের প্রকৃত মূল্য ১০০০ টাকা হলেও নেয়া হয় ২০০০ টাকা, আবার ১০০ টাকা পর্চা প্রাপ্তিতে ২০০ টাকায় প্রদান করতে হয়। দুদক টিমের নিকট আরও পরিলক্ষিত হয়, উক্ত দপ্তরে বিভিন্ন সেবা প্রদানের মূল্য তালিকা সম্বলিত সিটিজেন চার্টার দৃশ্যমান স্থানে টানানো হয়নি।
টিম অভিযানকালে সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসারকে দপ্তরে অনুপস্থিত পান। সার্বিক বিবেচনায় ওই দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বে অবহেলা, দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য কমিশনে প্রতিবেদন উপস্থাপন করবে দুদক।
এদিকে বিভিন্ন বিদ্যালয় থেকে নিরীক্ষাকালে শিক্ষকদের কাছ থেকে ঘুষ দাবির একাধিক অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করেছে দুদক। প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নেয়ামুল আহসান গাজীর নেতৃত্বে একটি এনফোর্সমেন্ট টিম আজ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিরীক্ষা ও পরিদর্শন অধিদপ্তরে এ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানকালে অধিদপ্তরের পরিচালকের উপস্থিতিতে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষা পরিদর্শকদের সতর্ক করা হয়। পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার এক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আগত অনুরূপ অভিযোগের প্রেক্ষিতে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক কমিশনকে অবহিত করার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার, আটোয়ারী-কে অনুরোধ করেছে দুদক এনফোর্সমেন্ট ইউনিট।
এদিকে কুড়িগ্রামে সড়ক ও জনপথ বিভাগ কর্তৃক নির্মাণাধীন সড়কে অনিয়মের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করেছে দুদক। সমন্বিত জেলা কার্যালয়, রংপুর হতে আজ এ অভিযান পরিচালিত হয়। দুদক টিম অভিযোগস্থলে সরেজমিনে পরিদর্শনে অভিযোগের সত্যতা পায়। অভিযানে দুদক টিমের তাৎক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাস্তার কাজ মানসম্মত হয়নি মর্মে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়। টিম উক্ত নির্মাণ কাজের সাথে জড়িত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রত্যাশিত মান নিশ্চিত করার পরামর্শ প্রদান করে। টিম রাস্তা নির্মাণের যাবতীয় তথ্যাবলী সংগ্রহ করে পরবর্তী সিদ্ধান্তের জন্য কমিশনে প্রতিবেদন উপস্থাপন করবে।
এমইউ/এনএফ/জেআইএম