দেশজুড়ে

ছেলেধরা গুজবে নারায়ণগঞ্জে ২ জনকে গণপিটুনি

নারায়ণগঞ্জের দুই এলাকায় ছেলেধরা গুজবে গৃহবধূ শেফালী বেগম (২৩) ও রাবেয়া বেগম নামে (৬৫) এক বৃদ্ধাকে গণপিটুনি দিয়েছে অতি উৎসাহীরা। পরে তাদের আহত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রোববার (২১ জুলাই) ফতুল্লায় ও আড়াইহাজার উপজেলায় এমন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ফতুল্লার তক্কারমাঠের বটতলা এলাকার ভাড়াটিয়া গার্মেন্টসকর্মী রশিদ মিয়ার ছেলে আকতার হোসেন (৯) বাড়ি ফেরার সময় তাকে হাত ধরে তিনতলা মসজিদের সামনে নিয়ে যেতে চায় শেফালী বেগম। আকতার না বলায় তাকে রুটির লোভ দেয়। পরে শিশুটিকে টানাটানি করলে সে দৌড়ে পুকুরে পড়ে। স্থানীয়রা ওই নারীর কাছে পরিচয় জানতে চাইলে ঠিকভাবে পরিচয় না দিয়ে কথা কাটাকাটি করে। পরে সে ভারত থেকে এসেছি বলে জানায়। এ সময় শেফালী বোরকার নিচে শিশুদের স্কুল পোশাক পরা দেখে তাকে ছেলেধরা সন্দেহ করে আটক করে তারা।

আকতার হোসেনের মা বলেন, ‘ছেলের চিৎকার শুনে প্রতিবেশী আপা গিয়ে দেখে ওই মহিলা (নারী) তার সঙ্গে জড়াজড়ি করছে। পরে আপায় তাকে (শেফালী বেগম) ধরে ফেলছে।

ফতুল্লা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসলাম হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আটককৃত শেফালী বেগমের বাড়ি কুড়িগ্রামে। স্বামী ঢাকায় থাকেন। জিজ্ঞাসাবাদে তার কথা বার্তা অসংলগ্ন ছিল। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অপরদিকে রোববার আড়াইহাজার উপজেলার সদর পৌরসভার উপজেলা পরিষদ মসজিদের আশপাশে ঘোরাফেরা করছিলেন বৃদ্ধা রাবেয়া বেগম। তার বাড়ি গোপালদী পৌরসভার মোল্লার চর গ্রামে। এ সময় এলাকাবাসীর সন্দেহ হলে পিটুনি দিয়ে পুলিশে দেয়া হয়। পরে ওই বৃদ্ধাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পেরেছি, সে একজন মানসিক প্রতিবন্ধী। ভিক্ষা করতে ওই এলাকায় গিয়েছিল।

আড়াইহাজার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ছেলেধরা গুজবে অতিউৎসাহী হয়ে আইনশৃংখলার অবনতি ঘটনার চেষ্টা করে। পুলিশের পক্ষ থেকে ছেলেধরা গুজবে কান না দেয়ার জন্য রোববার দিনব্যাপী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে মাইকিং করে জনগণকে সচেতন করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ জানান, একটি গোষ্ঠী ছেলেধরা গুজবে আইনশৃংখলার অবনতি করার চেষ্টায় লিপ্ত হচ্ছে।

তিনি ছেলেধরা গুজবে কান না দিতে এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এ বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে সব স্থানে মাইকিং করা হচ্ছে।

মো. শাহাদাত হোসেন/এমএমজেড/পিআর