দেশজুড়ে

রোহিঙ্গা নির্যাতনের সাক্ষ্য নিতে মিয়ানমারের তদন্ত দল

মিয়ানমার সরকার গঠিত ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট কমিশন অব ইনকোয়ারির (আইসিআই)’ একটি দল বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সাক্ষ্য নিতে কক্সবাজারে এসেছেন। প্রতিনিধি দলটি মঙ্গলবার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে কাল প্রায় ২০০ জন রোহিঙ্গার সঙ্গে কথা বলবেন। দলটি ফিরে গেলে আসবেন ‘এভিডেন্স কালেকশন এবং ভেরিফিকেশন’ নামের আরও একটি প্রতিনিধি দল। এমনটি জানিয়েছেন কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম।

সোমবার (১৯ আগস্ট) কক্সবাজার শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট কমিশন অব ইনকোয়ারি’ প্রতিনিধি দলের বৈঠক হয়।

মিয়ানমার সরকার গঠিত ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট কমিশন অব ইনকোয়ারি’ দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জাপানের সাবেক রাষ্ট্রদূত কেনজো ওশিমা। সদস্য হিসেবে রয়েছেন প্রফেসর অং টুন থেট, প্রফেসর ইউশিহিরো নাকানিশি, লিনা ঘোষ এবং খিন মিউ মিয়াট সো।

বৈঠক সম্পর্কে আর আর আর সি বলেন, যেসব রোহিঙ্গারা সাক্ষ্য দেবে তাদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। তাই রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার আশ্বাস না পেলে সাক্ষ্য পাওয়া কষ্টকর হবে আইসিআই টিমের। এটা তুলে ধরার পর ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট কমিশন অব ইনকোয়ারি’ প্রতিনিধি দলও আশ্বস্ত করেছেন সাক্ষ্যদাতাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখে কাজ করবেন।

বৈঠকে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও আরআরআরসি অফিসের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন সংস্থার লোকজন উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে থাকা কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন জানিয়েছেন, মিয়ানমার সরকার গঠিত ‘আইসিআই’র একটি দল কক্সবাজারে এসেছে। এরা চলে গেলে আরও একটি দল আগামী মাসে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের জন্য কক্সবাজারে আসবে।

আরআরআরসির সাথে বৈঠক শেষে প্রতিনিধি দলটি ‘ইউএনএইচসিআর’র প্রতিনিধি দলের সঙ্গেও বৈঠক করেন। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার বিমানবন্দর হয়ে প্রতিনিধি দলটি কক্সবাজারে পৌঁছেন। মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) সকালে উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করার কথা রয়েছে। উল্লেখ্য, রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিষয়টি তদন্তের জন্য ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট কমিশন অব ইনকোয়ারি (আইসিআই)’ গঠন করেছে মিয়ানমার সরকার। ওই কমিশনের একটি প্রতিনিধি দল চারদিনের সফরে গত (শনিবার) বাংলাদেশে আসে। দলটি এমন একটি সময়ে বাংলাদেশে এলো, যখন ২২ আগস্ট রোহিঙ্গাদের প্রথম দলটি তাদের মাতৃভূমি রাখাইনে প্রত্যাবাসিত হতে পারে।

এ ছাড়াও আগামী মাসে ‘এভিডেন্স কালেকশন এবং ভেরিফিকেশন’ নামের আরও একটি দল আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তারা রাখাইনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগগুলো তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিতে কাজ করবে।

সায়ীদ আলমগীর/এমআরএম