দেশজুড়ে

সেই মুর্শেদের বিরুদ্ধে আইনমন্ত্রীর তদন্ত কমিটি

অবশেষে দলীয় নেতা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মেহারী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোশারফ হোসেন মুর্শেদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে উপজেলা আওয়ামী লীগ। তার বিরুদ্ধে ওঠা মেহারী ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও যুবলীগ নেতা শওকত হোসেন জসিম হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্তের অভিযোগ তদন্তে এ কমিটি গঠন করে দিয়েছেন আইনমন্ত্রী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা ও আখাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য আনিসুল হক।

মেহারী ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতাদের লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার দুপুরে কসবা উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আনিসুল হক ভূঁইয়াকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

তদন্ত কমিটির সদস্য ও কসবা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জিএম হাক্কানী বিষয়টি নিশ্চিত করে জাগো নিউজকে বলেন, ‘বর্ধিত সভায় ইউপি সদস্য জসিম হত্যা মামলার আসামি মুর্শেদের বিরুদ্ধে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতাদের লিখিত অভিযোগের বিষয়টি আমি মন্ত্রী মহোদয়ের কাছে উপস্থাপন করি। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছেন মন্ত্রী। তদন্ত কমিটি আগামী বর্ধিত সভার আগে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দেবে।’

এর আগে গত ৫ জুলাই দুপুরে ইউপি সদস্য শওকত হোসেন জসিমকে কে বা কারা বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। ওইদিন রাতে মেহারী ইউনিয়নের যমুনা গ্রামের যমুনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি কক্ষ থেকে জসিমকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত আড়াইটার দিকে মারা যান তিনি। মৃত্যুর আগে জসিম মেহারী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি মোশারফ হোসেন মুর্শেদসহ কয়েকজনের নাম বলে যান। জসিমের সেই জবানবন্দিমূলক একটি ভিডিওচিত্র ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় মুর্শেদকে ২ নম্বর আসামি করে কসবা থানায় হত্যা মামলা করেন জসিমের ছোট ভাই মো. আলাউদ্দিন। মামলার পর থেকেই মুর্শেদ গা ঢাকা দিয়েছেন। এখন পর্যন্ত মুর্শেদসহ মামলার মূল আসামিদের পুলিশ গ্রেফতার করতে না পারায় আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিয়ে শঙ্কিত নিহত জসিমের পরিবার।

আজিজুল সঞ্চয়/এনডিএস