জাতীয়

দেশব্যাপী দুদকের ছয় অভিযান

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সারাদেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতিবিরোধী ছয়টি অভিযান পরিচালনা করেছে। কুমিল্লা ফায়ার সার্ভিসে ফায়ার লাইসেন্স প্রদানে অনিয়মের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করে দুদক।

দুদক অভিযোগ কেন্দ্রে (টোল ফ্রি হটলাইন- ১০৬) এই মর্মে অভিযোগ আসে যে, ওই দপ্তরে ফায়ার লাইসেন্স করতে গেলে অতিরিক্ত টাকা প্রদান করতে হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সমন্বিত জেলা কার্যালয়, কুমিল্লা হতে অভিযান পরিচালিত হয়।

সরেজমিন অভিযানে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পায় দুদক টিম। টিম অবৈধ অর্থ গ্রহণের সাথে জড়িত এক ড্রাইভারের বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।

এদিকে একই টিম কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করে। দুদক এনফোর্সমেন্ট ইউনিটে অভিযোগ আসে, ওই কলেজের গত ১৬ মাসের আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ব্যাপক ফারাক তথা অনিয়ম রয়েছে। কলেজের সদ্য বিদায়ী অধ্যক্ষ এ অনিয়মের সাথে জড়িত- এমন অভিযোগও পাওয়া যায়। অভিযানকালে টিম কলেজের আয়-ব্যয়ের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে। তথ্যাবলি বিশ্লেষণপূর্বক কমিশনে বিস্তারিত প্রতিবেদন উপস্থাপন করবে অভিযানকারী টিম।

এদিকে, নওগাঁর রাণীনগরে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন কর্মসূচিতে অনিয়মের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করে দুদক। দুদক এনফোর্সমেন্ট ইউনিটে অভিযোগ আসে, ওই কর্মসূচির আওতাধীন কাবিখা, টিআর, কাবিটাসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সমন্বিত জেলা কার্যালয়, রাজশাহীর একটি এনফোর্সমেন্ট টিম অভিযান পরিচালনা করে বাস্তবায়িত দুটি প্রকল্প পরিদর্শন করে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থিত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। টিম প্রকল্প অফিস থেকে রেকর্ডপত্র সংগ্রহ এবং পর্যালোচনা করে। এ অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধানের অনুমোদন চেয়ে কমিশনে প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে।

এদিকে ঝিনাইদহের মহেশপুরে ১২৯ মেট্রিক টন ধানবীজ খামারে মজুদ করার তথ্য গোপন করে আত্মসাতের অভিযোগে, টাঙ্গাইলের শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের এক ডাক্তারের বিরুদ্ধে ডিউটির সময় হাসপাতালে উপস্থিত না থেকে প্রাইভেট প্র্যাকটিসের অভিযোগে এবং নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের অবহেলা ও দুর্নীতির ফলে রোহিঙ্গাদের নিকট জাতীয় পরিচয়পত্র যাওয়ার অভিযোগে যথাক্রমে সমন্বিত জেলা কার্যালয় যশোর, সমন্বিত জেলা কার্যালয় টাঙ্গাইল এবং সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম- ২ হতে তিনটি পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এমইউ/এমএআর/পিআর