আইন-আদালত

ধর্মপাশা উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ নিয়ে হাইকোর্টের রুল

সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলার চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন রোকন কীভাবে কোন কর্তৃত্ব বলে একসঙ্গে দুটি পদে আছেন, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

উপজেলা চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন হলেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের ছোট ভাই। যার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্তে থাকায় বিদেশে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, নির্বাচন কমিশনের সচিব, সিলেট বিভাগীয় কমিশনার, চেয়ারম্যান সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ, সুনামগঞ্জের রিটার্নিং কর্মকর্তা, ধর্মপাশা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা চেয়ারম্যানসহ ১৩ জনকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এ সংক্রান্ত এক আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি খোন্দকার দিলিরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে এদিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী বাকির উদ্দিন ভূঁইয়া। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুদ্দিন খালেদ।

আইনজীবী বাকির উদ্দিন ভূঁইয়া সাংবাদিকদের জানান, সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন রোকন। তিনি সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচনে ২০১৬ এর ২নং ওয়ার্ডের নির্বাচিত সদস্য। আবার তিনি ধর্মপাশা উপজেলারও চেয়ারম্যান। যেহেতু জেলা পরিষদও একটি নির্বাচিত পদ। সেই পদে তিনি আসীন রয়েছেন। আবার একই সঙ্গে উপজেলারও চেয়ারম্যান। তিনি এক সঙ্গে দুটি পদে থাকতে পারেন না।

তিনি জেলা পরিষদের সদস্য থেকে পদত্যাগ না করে উপজেলা নির্বাচন- ২০১৯ এর চেয়ারম্যান পদে অংশগ্রহণ করে যা উপজেলা পরিষদ আইন- ২০০৮ এর ধারা ৮(২)(ঙ) এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন তিনি। ওই উপজেলার প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থী শামীম আহমেদ মুরাদ বর্তমান চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন রোকনের পদে থাকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করেন। রিটে বলা হয়, সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচন ২০১৬ এর ২নং ওয়ার্ডের নির্বাচিত সদস্য হওয়ার পরেও তিনি (মোজাম্মেল হোসেন) পদত্যাগ না করে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেছেন। তাই তার উপজেলা চেয়ারম্যান পদে থাকার কোন আইনগত বৈধতা নাই। ওই রিটের শুনানি নিয়ে আদালত এই আদেশ দেন।

এফএইচ/জেএইচ/জেআইএম