মা-ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞায় লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীতে প্রশাসনের ২২৭টি অভিযানে জাল-ইলিশসহ ৯০ জন জেলে আটক হয়েছেন। এর মধ্যে ৩৩ জনকে কারাদণ্ড ও ৫৭ জনকে জারিমানা করা হয়। বুধবার মধ্যরাতে নিষেধাজ্ঞা শেষে মাছ শিকারে নদীতে যাবেন জেলেরা।
জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞার সময় সরকারিভাবে বিনামূল্যে ৩৭ হাজার ৩২৬ জন জেলেকে ২০ কেজি করে চাল দেয়া হয়েছে। কিন্তু লক্ষ্মীপুরে ৫০ হাজার ২৫২ জন নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন। তবে বেসরকারি কয়েকটি সংস্থার তথ্য অনুসারে, জেলায় প্রায় ৬২ হাজার জেলে মৎস্য আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
এখানকার জেলেদের কেউই স্বাবলম্বী নয়। যার কারণে দাদনদার ও আড়তদারের কাছ থেকে সুদে টাকা নিয়ে জেলেদের মাছ শিকারের ব্যবস্থা করতে হয়। দাদনদার ও আড়তদারের টাকা পরিশোধ করতে জেল-জরিমানার ঝুঁকি নিয়ে জেলেদের নদীতে নামতে হয়। যেসব জেলে সরকারিভাবে চাল পান না তারাই বাধ্য হয়ে নদীতে মাছ শিকারে যান।
জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, নদীতে নিষেধাজ্ঞার ২২ দিনে জেলা, উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ ও কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে ২২৭টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার থেকে রায়পুরের টাংকির খাল পর্যন্ত ৭০ কিলোমিটার মেঘনা এলাকায় প্রশাসন এ অভিযান চালায়। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় এ সময় ৯০ জন জেলেকে আটক করা হয়। এর মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৩৩ জনকে কারাদণ্ড ও ৫৭ জনকে জরিমানা করা হয়। এ সময় জব্দকৃত ১.৬ লাখ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। জালগুলোর বাজার মূল্য প্রায় ৩৫ লাখ টাকা। এছাড়া জব্দ হওয়া ৯৩৫ কেজি ইলিশ স্থানীয় এতিমখানা ও অসহায়দের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এসএম মহিব উল্যাহ বলেন, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে মাছ শিকারের দায়ে ৯০ জনকে আটক করা হয়। এ সময় ৫২টি মামলা ও ৩৭ বার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেও জাটকা সংরক্ষণে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
৯ অক্টোবর মধ্য রাত থেকে ৩০ অক্টোবর মধ্য রাত পর্যন্ত লক্ষ্মীপুরের আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল পর্যন্ত মেঘনার ১০০ কিলোমিটার এলাকায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল। এ সময় নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের জেল, জরিমানা ও উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।
কাজল কায়েস/এএম/এমএস