দেশজুড়ে

বাবাকে অপহরণ করে মেয়ে ডেকে ধর্ষণের পরিকল্পনা

কুমিল্লায় বাবাকে অপহরণ করে মেয়েকে ধর্ষণের পরিকল্পনা করেছিল একটি অপহরণকারী চক্র। ঘটনার খবর জানার পর তাৎক্ষণিকভাবে অভিযানে মাঠে নামে পুলিশ এবং দুই ঘণ্টার মধ্যে নাটকীয় কায়দায় নগরীর নেউড়া এলাকার একটি ছয়তলা ভবনের নিচতলা হতে শিকল বাঁধা অবস্থায় ভিকটিম আজাদ হোসেনকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় অপহরণকারী চক্রের সদস্য জামাল মিয়াকে আটক করা হয়েছে।

গত শনিবার (১৬ নভেম্বর) জেলার আদর্শ সদর উপজেলার দৌলতপুর এলাকা হতে ভিকটিমকে অপহরণ করা হয়েছিল। রোববার (১৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় প্রেস ব্রিফিং করে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর-এ সার্কেল) তানভীর সালেহীন ইমন।

এদিকে এ ঘটনায় ভিকটিমের স্ত্রী বাদী হয়ে রোববার রাত ৮টার দিকে চারজনকে আসামি করে কোতয়ালি মডেল থানায় মামলা করেছেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানভীর সালেহীন ইমন জানান, গত শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে আদর্শ সদর উপজেলার দৌলতপুর এলাকার আবদুর রশিদের ছেলে আজাদ হোসেন (৪৫) বাড়ি হতে বের হয়ে তার বোনের বাড়ি পার্শ্ববর্তী সদর দক্ষিণ উপজেলার রাজারখোলা গ্রামে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে দৌলতপুর এলাকার চিশতিয়া জুট মিলের সামনে গেলে সেখানে সাদা রংয়ের একটি প্রাইভেটকারে চারজন অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি তার গতি রোধ করে এবং ডিবি পুলিশ পরিচয়ে গামছা দিয়ে চোখ বেঁধে গাড়িতে করে তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়।

পরে সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে অপহরণকারীরা আজাদ হোসেনের মেয়ে রিয়া আক্তারের মোবাইলে ফোন করে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে নগরীর নেউড়া এলাকায় যেতে বলে এবং তার বাবার সঙ্গে কথা বলিয়ে দেয়। রাত পৌনে ৯টার দিকে ভিকটিমের মেয়ে রিয়া আক্তার বিষয়টি কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশকে জানায়।

তিনি আরও জানান, তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অপহরণকারীদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলামের নির্দেশে পুলিশের দুটি টিম ভিকটিমের মেয়ে রিয়াকে সঙ্গে নিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। অভিযানের একপর্যায়ে ভিকটিম আজাদ হোসেনকে নগরীর নেউড়া ইকো পার্কের পাশের একটি ছয়তলা ভবনের নিচ তলা হতে শিকল বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনজন অপহরণকারী পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল হতে জামাল মিয়া নামে এক অপহরণকারীকে আটক করা হয়।

আটক জামাল মিয়া জেলার বুড়িচং উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের বারেশ্বর গ্রামের বাচ্চু মিয়ার ছেলে। সে নগরীর নেউড়া এলাকায় জনৈক জহিরুল ইসলামের বাড়িতে ভাড়া থাকতো।

ভিকটিম আজাদ হোসেন বলেন মূলত তাকে জিম্মি করে তার মেয়ে রিয়া আক্তারকে ধর্ষণের উদ্দেশ্যে অপহরণকারীরা এই পরিস্থিতির সৃষ্টি করে এবং এ বিষয়ে তারা পরস্পর আলোচনা করছিল। পুলিশের সহায়তায় আমি উদ্ধার হয়েছি এবং আমার মেয়ে একটি বড় ধরণের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে।

কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) সালাহউদ্দিন জানান, এ ঘটনায় ভিকটিম আজাদ হোসেনের স্ত্রী মোরশেদা বেগম বাদী হয়ে রোববার রাতে চারজনকে আসামি করে মামলা করেছেন। মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে।

কামাল উদ্দিন/আরএআর/পিআর