প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর রাজনৈতিক অপশক্তির প্রভাবে দেশে ধর্মান্ধ ও প্রতিক্রিয়াশীল বিভিন্ন চক্রের উদ্ভব ঘটে। নানা পৃষ্ঠপোষকতায় স্বাধীনতাবিরোধী ও জঙ্গিবাদে বিশ্বাসী এ চক্র তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করতে থাকে।
এ প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের মূল টার্গেট হলো বিচারাঙ্গন। দেশের বিচারাঙ্গনের বিচারক ও আইনজীবীরা বারবার এ ঘৃণিত চক্রের নির্মম ও মর্মান্তিক হামলার শিকার হয়েছেন। মূলত যারা বাংলাদেশের অস্তিত্বকে বিশ্বাস করে না সেই বিপথগামী গোষ্ঠী বারবার বিচার ব্যবস্থার ওপর আঘাত করে। তারা বিচারক হত্যা করে, আইনজীবী হত্যা করে। তারা জানে না ব্যক্তিকে হত্যা করা যায়, আদর্শকে হত্যা করা যায় না।
রোববার সন্ধ্যায় গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে সন্ত্রাসী জেএমবি কর্তৃক বোমা হামলায় শহীদ আইনজীবীদের স্মরণে শোকর্যালি, শোকসভা, মিলাদ ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনজীবীদের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, আইনজীবীরা বিচার ব্যবস্থার একটি অপরিহার্য অঙ্গ। আইনজীবীদের সহায়তা ছাড়া বিচারকাজ কিছুতেই অগ্রসর হতে পারে না। আশা করছি, জ্ঞান চর্চায় আইনজীবী সমাজ আরও এগিয়ে যাবেন এবং তাদের মেধা, প্রজ্ঞা, সততা ও আন্তরিকতা দিয়ে বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে সহায়তা করবেন। ব্যক্তি স্বাধীনতা ও মানুষের মৌলিক অধিকারের প্রতি আইনজীবীদের রয়েছে অকুণ্ঠ বিশ্বাস। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আপনাদের নির্ভিক হতে হবে।
গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. খালেদ হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মনজুর মোর্শেদ প্রিন্সের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, গাজীপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ ড. এ কে এম আবুল কাশেম, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলম, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিন খান, অ্যাডভোকেট আজমত উল্লা খান, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এস এম তরিকুল ইসলাম, এস এম শফিকুল ইসলাম বাবুল, ওয়াজ উদ্দিন মিয়া, পিপি হারিছ উদ্দিন আহমদ, সুলতান উদ্দিন, জিপি আমজাদ হোসেন বাবুল, ব্যারিস্টার নাজমুল হোসাইন রানা, অ্যাডভোকেট নূরুল আমিন, দেওয়ান আবুল কাশেম, জেবুন্নেছা মিনা প্রমুখ।
মো. আমিনুল ইসলাম/এমবিআর/এমকেএইচ