জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম শিউলি আজাদের বিরুদ্ধে শ্বশুরবাড়ির সম্পদ দখলের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার ননদ রুবি ইয়াছমিন।
মঙ্গলবার (০৩ ডিসেম্বর) দুপুর ১টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। রুবি অস্ট্রেলিয়া থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সাংবাদিকদের কাছে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন। অভিযোগকারী রুবি সরাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা এ কে এম ইকবাল আজাদের ছোট বোন ও শিউলি আজাদের ননদ।
রুবি অভিযোগ করে বলেন, সংসদ সদস্য হওয়ার পর শিউলি আজাদ আমাদের সহায়-সম্পদ গ্রাসে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের সন্ধানী ক্লিনিকের ২১টি শেয়ারের মধ্যে প্রয়াত জাহাঙ্গীর আজাদের নামে তিনটি ও শিউলি আজাদের নামে তিনটি শেয়ার আছে। শিউলি আজাদ তার নামের শেয়ারসহ জাহাঙ্গীর আজাদের তিনটি শেয়ারের টাকাও জোর করে প্রতি মাসে ক্লিনিকে এসে নিয়ে যান। এছাড়া ওই ক্লিনিক ও ক্লিনিক ভবনের দোকানের ভাড়াও জোর করে নিয়ে যান তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, জাহাঙ্গীর আজাদের মৃত্যুর পরদিন শিউলি আজাদ সন্ধানী ক্লিনিকে এসে পৈতৃক সম্পত্তির ওয়ারিশদের সব দলিলপত্র ও ব্যবসায়িক কাগজপত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও নগদ টাকা নিয়ে যান। জাহাঙ্গীর আজাদের শেয়ারের টাকা ও ক্লিনিক ভবনের দোকান ভাড়ার টাকা তার ও তার বাবার প্রকৃত ওয়ারিশরা প্রাপ্য। কিন্তু শিউলি আজাদ তাদের এ প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করছেন। জাহাঙ্গীর আজাদ জীবিত থাকাকালে সরাইলে মূল বাড়ি বন্ধক রেখে ব্যাংক থেকে ৬০ লাখ টাকা ঋণ নেন। কিন্তু শিউলি আজাদ কৌশল করে ওই টাকাও তার অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করেন। এখন ওই ঋণের দায়ভার আমাদের পরিবারের ওপর। সরাইলের মূল বাড়িসহ সব জমি-জমা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয় এখন তার হাতে। ওয়ারিশদের তাদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করছেন শিউলি আজাদ।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম শিউলি আজাদ বলেন, আমার ছেলে-মেয়ে আছে এখানে। আমি তো বউ। এখানে আমার কিছুই নেই, সব আমার ছেলে-মেয়ের। আমার স্বামীর সম্পদ আমি এখনো বুঝে পাইনি। আপানারা অভিযোগগুলো যাচাই করে দেখেন কতটুকু সত্যতা আছে। সত্যতা থাকলে আপনারা অবশ্যই লিখবেন।
আজিজুল সঞ্চয়/এএম/এমএস