খেলাধুলা

একসঙ্গে এত দলকে প্র্যাকটিসে দেখে ভড়কে গেছেন রংপুর কোচ

‘ওয়াচ ইট, ওয়াচ দ্য বল।’ মিরপুরে হোম অব ক্রিকেটের উত্তর পার্শ্বের একাডেমি মাঠে ঢুকলেই এ শব্দ কানে আসবে। একটু গোলমেলে ঠেকছে, তাই না? ভাবছেন কেন? ‘ওয়াচ ইট বা ওয়াচ দ্য বল’ মার্কা সংলাপ কেন আসবে কানে?

গোলমেলে ঠেকার কিছুই নেই। ঐ শব্দ কানে আসবে এই কারণে যে, গত কয়েকদিন ধরে এই বিসিবি একাডেমি মাঠে সেই সাত সকাল থেকে পড়ন্ত বিকেল পর্যন্ত গড়পড়তা দুই থেকে তিন দলের প্র্যাকটিস চলছে।

পাশে বিস্তৃত একাডেমি মাঠ। পূর্ব ও পশ্চিমে। ঐ দিকে গজ দিয়ে মাপলে হয়তো সোয়া শ’ গজের মত হবে। সেখানে দুই দিকে নেট চললে সমস্যা ছিল না। সমস্যা হয় অন্য জায়গায়। ঐ মাঠের সেন্টার উইকেটেও প্র্যাকটিস করেন কেউ কেউ বা কোন দল। তখনই বাঁধে বিপত্তি।

এমনিতে এক নেটের বল ব্যাটসম্যানের খেলা শটস অন্য দিকে আসে কম। কিন্তু যখনই মাঠের মাঝখানে কোন দল সেন্টার উইকেটে ব্যাটিং প্র্যাকটিস করে কিংবা কোন দল ফিল্ডিং ক্যাচিং করে, তখনই ঘটে বিপত্তি।

এর ওর গায়ে বল লাগার উপক্রম ঘটে। কখনো লাগেও। দেখা গেল, পূর্ব দিকেই এক ব্যাটসম্যান সোজা তুলে মারলেন, সেই বল চলে যায় মাঠের দক্ষিণ দিকে থাকা অস্থায়ী সাজঘরের দিকে।

আবার উল্টো দিকের নেট থেকে কেউ কভার, এক্সট্রা কভার আর মিড অফ ও লং অফ-লং অনের ওপর শট খেললে সেটা চলে আসে বিপরীত দিকে প্র্যাকটিসে থাকা অন্য দলের ক্রিকেটারদের গায়ে। বিশেষ করে যারা বিগ শট নেন এবং হাওয়ায় ভাসিয়ে শটস খেলেন, তাদের মারা বল অন্য দলের অনুশীলনে ব্যস্ত থাকা ক্রিকেটারদের গায়ে লাগার সম্ভাবনা থাকে।

আর সেই কারণেই কেউ বড় শট নিলে এবং তা নেটে না জড়িয়ে সামনে বা অন্য দিকে চলে গেলে অন্য দলের ফিল্ডিংয়ে মনোযোগী ক্রিকেটারদের শরীরে আঘাত হানার সম্ভাবনা থাকে। তাই চেঁচিয়ে বড় গলায় তাদের সতর্ক সাবধানী করার জন্যই বলা হয় ‘ওয়াচ ইট বা ওয়াচ দ্যা বল।’

কিন্তু কি আর করা! যেহেতু রাজধানীর বুকে শেরে বাংলার ইনডোর, জিমনেসিয়াম আর একাডেমি মাঠের সাথে দুই দিকের আধুনিক প্র্যাকটিস ফ্যাসিলিটিজ কোথাও আর নেই। তাই ‘অগত্যা মধুসূদন’ ঐ একাডেমি মাঠে তিন দলের ভাগাভাগি করেই বিপিএলের আগে ও সময় চলে অনুশীলন। আর তাতে খেলোয়াড়দের গায়ে বল লেগে আহত হবার সম্ভাবনাও থাকে যথেষ্ট।

শেরে বাংলার একাডেমি মাঠের সেই প্র্যাকটিসে বল লাগার ভয়টা প্রথম দিনই জেঁকে বসেছে রংপুর রেঞ্জার্সের নতুন নিউজিল্যান্ড কোচ মার্ক ও’ ডনেলের।

আজ সোমবার প্রথম দিন প্র্যাকটিসে এসে উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে গিয়ে মাঠের ভেতরে এক সাথে কয়েকটি দলের অনুশীলন নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি। তার ধারণা, এখানে এক সঙ্গে ৬ দল অনুশীলন করছে। সাথে দর্শকও আছে। তাই তার মাঝে জেগেছে ভয়।

তাইতো মুখে ভয় কাতর কন্ঠের সংলাপ, ‘ছয় দল এবং আরও কিছু র্দশক এক সাথে একই সময় প্র্যাকটিস করছে। ভয় লাগছে কখন কার গায়ে বল লাগে!’

আগে কখনো এক মাঠে একই সময়ে এত দলের ক্রিকেটারদের প্র্যাকটিস করতে দেখেননি এ কিউই কোচ। দেখার কথাও না। সেই বিস্ময় গোপন করতে পারলেন না কথাতেও, ‘আমি কখনো এরকম দেখিনি। এত ছোট জায়গায় এতগুলো দল একসঙ্গে অনুশীলন করছে!’

এআরবি/এমএমআর/এমকেএইচ