চলতি আমন মৌসুমে নওগাঁ সদর উপজেলায় প্রথম বারের মতো ডিজিটাল খাদ্যশস্য ব্যবস্থাপনায় ‘কৃষকের অ্যাপ’র মাধ্যমে লটারি করে ধান সংগ্রহে কৃষক নির্বাচন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টায় উপজেলা হল রুমে এ আয়োজন করে ধান সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটি। কৃষক নির্বাচনে লটারি করেন ধান সংগ্রহ কমিটির সভাপতি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিক, ভাইস চেয়ারম্যান ইলিয়াস তুহিন রেজা, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নির্মল কৃষ্ণ, সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহাবুবুল হক কমল, সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাজের হাসান, কৃষি অফিসার একেএম মফিদুল ইসলাম ও সদর উপজেলা খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা আতিকুর রহমান প্রমুখ। সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা থেকে ১৩ হাজার ৫০৬ জন কৃষক নিবন্ধন করলেও আবেদন করেছেন ছয় হাজার ৯২৬ জন।
চলতি আমন মৌসুমে ২৬ টাকা কেজি দরে এক হাজার মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। লটারিতে মোট ৭৭১ জন কৃষক নির্বাচিত করা হয়েছে। এর মধ্যে বড় ৮৩ জন, মাঝারি ১৮৭ জন ও ক্ষুদ্র কৃষক ৫০১ জন। লটারিতে যেসব কৃষকের নাম উঠেছে তাদের মোবাইলে খুদে বার্তা পৌঁছে যাবে।
নওগাঁ জেলার মধ্যে সদর উপজেলায় প্রথম বারের মতো ‘কৃষকের অ্যাপ’র মাধ্যমে ধান কেনার কার্যক্রমের উদ্যোগ নেয়া হয়। অ্যাপ ব্যবহারের জন্য প্রয়োজন অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল। কিন্তু অধিকাংশ কৃষক শিক্ষিত নন। অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ব্যবহারের বিষয়ে তারা অজ্ঞ। ফলে অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে তাদের। আবার কৃষি কার্ডধারী কৃষক ছাড়া নিবন্ধনের কোনো সুযোগ ছিল না।
উপজেলার বর্ষাইল গ্রামের কৃষক রমজান আলী বলেন, আমার সাড়ে ছয় বিঘা আবাদি জমি আছে। কৃষি কার্ড থেকে সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছি না। গত মৌসুমে লটারিতে নাম না উঠায় গুদামে ধান দিতে পারিনি। চলতি মৌসুমে অ্যাপের মাধ্যমে ধান কেনা হবে বলে কয়েক দিন আগে শুনেছি। বিষয়টি আমাদের আগে জানানো হয়নি। অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন ও আবেদন প্রক্রিয়া জটিল। সব কৃষকের পক্ষে এ অ্যাপ ব্যবহার করা সম্ভব নয়।
নওগাঁ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা একেএম মফিদুল ইসলাম বলেন, চলতি আমন মৌসুমে প্রথম বার অ্যাপ থেকে আবেদনকৃত কৃষকদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচিত করা হয়েছে। যে পরিমাণ নিবন্ধন করা হয়েছে তার অর্ধেক কৃষক আবেদন করেছেন। বাকি অর্ধেক কৃষক আবেদন করেননি। তাদের ঘরে হয়তো ধান নেই। বোরো মৌসুমে ধান সংগ্রহের সময় কৃষকদের পৃথকভাবে নিবন্ধন ও আবেদন করতে হবে।
নওগাঁ সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাজের হাসান বলেন, লটারিতে যেসব কৃষক নির্বাচিত হয়েছেন তাদের মুঠোফোনে বার্তা চলে যাবে। কৃষকরা খুদে বার্তা পাওয়ার পর থেকে যেকোনো সময় গুদামে ধান দিতে পারবেন।
প্রসঙ্গত, জেলার ১১টি উপজেলার মধ্যে শুধু সদর উপজেলায় ‘কৃষকের অ্যাপ’র মাধ্যমে আমন ধান সংগ্রহ করা হবে। গত ২৫ নভেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত কৃষকের অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন ও আবেদন করা হয়।
আব্বাস আলী/এএম/এমএস