ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত কিংবা সংক্রামক রোগী এলেই এক সেট গ্লোভস কেনার আদেশ দেয়া হয়। যদিও এ গ্লোভস হাসপাতাল থেকে সরবরাহ করার কথা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আদেশ পেয়ে রোগীর স্বজনরা বাইরের ফার্মেসি থেকে গ্লোভস কিনে আনেন।
তবে গ্লোভস না আনা পর্যন্ত জরুরি বিভাগে থাকা কর্মকর্তারা রোগীকে চিকিৎসা দেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। শুধু জরুরি বিভাগেই নয় সংক্রামক ওয়ার্ডেও একই অবস্থা। এছাড়া হাসপাতালের চিকিৎসকরা একটি নির্ধারিত কোম্পানির গ্লোভস আনতে রোগীদের বাধ্য করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে ।
বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) সকালে সরেজমিনে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও সংক্রামক ব্যধি ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে, যে সকল রোগীরা ইনজেকশন নিতে আসছে তাদের প্রত্যেকের হাতে একটি স্লিপ ধরিয়ে দিয়ে গ্লোভস কিনে আনতে বলা হচ্ছে। প্রতিজোড়া গ্লোভস’র দাম ৪০ টাকা।
জলাতঙ্ক বিভাগে ইনজেকশন নিতে আসা সাব্দিদুল বলেন, কুকুরে কামড় দেয়ায় সদর হাসপাতালে জলাতঙ্ক রোগের ইনজেকশন নিতে এসেছি। এক সেট গ্লোভস কিনে আনতে হবে বলেছেন নার্স। ৪০ টাকা দিয়ে এক জোড়া গ্লোভস কিনে আনার পর নার্স বললেন এটা চলবে না, পাল্টে আনেন। এরপর গ্লোভস পাল্টে এনে দেয়া হয়।
তিনি বলেন, যে গ্লোভস পরে আগের রোগীকে ইনজেকশন দেয়া হয়েছে সেই একই গ্লোভস পরে একাধিক রোগীকে ইনজেকশন দিচ্ছেন নার্সরা। আমার বেলায়ও এমনটা হয়েছে। নার্সের কাছে যে গ্লোভস কিনে দিয়েছিলাম আমাকে ইনজেকশন দেয়ার সময় সেটি ব্যবহার করা হয়নি। জেলা সদরের এ হাসপাতালে প্রতিদিন জলাতঙ্ক বিভাগে প্রায় ৮০ থেকে ১০০ রোগী আসে। তাদের প্রত্যেককে দিয়ে গ্লোভস কিনে আনা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হরিনাকুন্ডু গ্রামের এক পল্লী চিকিৎসক জানান, তাকে বিড়াল কামড় দিয়েছিল। হাসপাতালে জলাতঙ্ক রোগের ইনজেকশন নিতে গেলে হাতের গ্লোভস কিনে আনতে বলা হয়। কিন্তু তারা তার কিনে আনা গ্লোভস রেখে অন্য একটা ব্যবহার করেছে।
একই রকম কথা বললেন, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত মিজানুর রহমান নামে এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, আমি যন্ত্রণায় ছটফট করলেও গ্লোভস না আনা পর্যন্ত চিকিৎসা দেয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সদর হাসপাতালের একজন নার্স জানান, তাদের ওয়ার্ডে কোনো গ্লোভস সাপ্লাই দেয়া হয় না। তাই বাধ্য হয়েই রোগীদের কিনে আনতে বলেন। তবে একই গ্লোভস বারবার ব্যবহারের বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।
সদর হাসপাতালের সামনে এক ফার্মেসি থেকে গ্লোভস পরিবর্তনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের একটি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি আছে। সেই কোম্পানির গ্লোভস ছাড়া তারা ব্যবহার করেন না। যারা অন্য কোম্পানির গ্লোভস নিয়ে যান তাদেরটা আবার ফেরত দেন।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আয়ুব আলী কাছে গ্লোভস সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে এ বছর গ্লোভস বেশি করে কেনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান।
আব্দুল্লাহ আল মাসুদ/আরএআর/এমএস