মো. বাদশা মিয়ার বয়স ৬৫ বছর। শেষ জীবনে অর্থসম্পদ কিছুই চান না তিনি। শুধু মৃত্যুর আগে একমাত্র মেয়ে বিবি মরিয়মের (৩০) হত্যাকারীর ফাঁসি দেখতে চান বাদশা মিয়া।
মেয়ের হত্যাকারীর শাস্তি হলে মরেও শান্তি পাবেন বলে জানিয়েছেন বাদশা মিয়া। মেয়ে হত্যার বিচার চেয়ে গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে প্রতিদিন সকাল-বিকেল মেয়ের কবরের পাশে বসে কাঁদছেন এই বাবা। ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার পক্ষিয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ঘটনা এটি।
বৃদ্ধ বাদশা মিয়া বলেন, ১৬ বছর আগে একমাত্র মেয়ে বিবি মরিয়মের সঙ্গে একই ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের মাছ ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীরের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের ঘরে তিনটি সন্তান জন্ম নেয়। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের জন্য মরিয়মের ওপর নির্যাতন শুরু করে জাহাঙ্গীর। এ নিয়ে কয়েকবার সালিশ-বৈঠক করেও কোনো সমাধান হয়নি। গত ২৮ নভেম্বর মরিয়মকে বেধড়ক মারধর করে হত্যা করে জাহাঙ্গীর। এরপর প্রতিবেশী ইউসুফের ঘরের পাশে মরিয়মের মরদেহ ফেলে পালিয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার পরদিন আমার বড় ছেলে মো. বেল্লাল হোসেন বাদী হয়ে ভোলা আদালতে হত্যা মামলা করে। মামলায় জাহাঙ্গীরকে আসামি করা হয়। কিন্তু জাহাঙ্গীর এখনও পলাতক। পুলিশ তাকে ধরতে ব্যর্থ। আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই। পুলিশ শুধু বলছে তারা তদন্ত করছে। জাহাঙ্গীরকে খুঁজে বের করে গ্রেফতার করছে না পুলিশ।
বাদশা মিয়া বলেন, ধন-সম্পদ কিছুই চাই না আমি। জাহাঙ্গীরের ফাঁসি না দেখে যেন আমার মৃত্যু না হয় আল্লাহ। এটাই আমার প্রার্থনা। প্রধানমন্ত্রীর কাছে এটাই আমার প্রাণের দাবি, আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই।
এলাকাবাসী জানায়, প্রায় প্রতিদিনই স্ত্রী মরিয়মকে মারধর করতেন জাহাঙ্গীর। ঘটনার দিন ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে মরিয়মকে অনেক মারধর করা হয়। মারধরের কারণেই মরিয়মের মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এনামুল হক বলেন, নিহতের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এখনও আমাদের হাতে আসেনি। পুরো ঘটনা এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে ভালোভাবে তদন্ত করছি আমরা। নিহতের পরিবার আদালতে হত্যা মামলা করেছে। আসামি জাহাঙ্গীর পলাতক।
জুয়েল সাহা বিকাশ/এএম/পিআর