প্রায় তিন বছর আগে গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর এলাকার লোহাগাছ কমিউনিটি ক্লিনিকের মূল ভবনটি পরিত্যাক্ত হয়ে যায়। এরপর সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে স্থানীয়দের অনুরোধে ক্লিনিক ঘেঁষা একটি মাটির ঘরে সরকারি চিকিৎসা সেবা দেয়া শুরু করা হয়। সেখানেই ঝুঁকি নিয়ে চলছিল চিকিৎসা সেবা। কিন্তু গত ৪ জানুয়ারি মাটির ঘরের ধর্ণা ধসে ওই কেন্দ্রের এক স্বাস্থ্যকর্মীর মাথা ফেটে যায়। এরপরই বন্ধ হয়ে যায় সেখানকার চিকিৎসা সেবার কার্যক্রম। এতে দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ রোগীরা।
স্থানীয় লোকজন ও স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, শ্রীপুর পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের লোহাগাছ গ্রামে প্রায় সাড়ে আট হাজার লোকের বসবাস। গ্রামটি শ্রীপুর সদর থেকে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে। এই এলাকার লোকজনের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে ২০০০ সালে সরকার এই গ্রামে কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ করে। এরপর এখান থেকেই গ্রামের মানুষের চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছিল। প্রতিদিন এই ক্লিনিক থেকে ৪০-৪৫ জন মা ও শিশুর চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হতো। গত কয়েক বছর আগে রেললাইন ঘেঁষে স্থাপন করা ক্লিনিকটির বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা যায়।
পরে বিগত ২০১৭ সালের দিকে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ এর কার্যক্রম ক্লিনিক লাগোয়া একটি মাটির দেয়াল ঘেরা ক্লাব ঘরে স্থানান্তর করে। সেখান থেকেই পরিচালিত হয়ে আসছিল সরকারের প্রান্তিক চিকিৎসা সেবা দেয়ার কার্যক্রম। মাটির দেয়াল ঘেরা ক্লাব ঘরটিও ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। গত শনিবার দুপুরে ওই মাটির ঘরে চিকিৎসা দেয়ার সময় উপর থেকে কাঠ (ধর্ণা) খসে পড়ে এক স্বাস্থ্য কর্মী মাথায় আঘাত প্রাপ্ত হয়। এরপর থেকেই বন্ধ হয়ে যায় চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম। দু’দিন ধরে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীরা ক্লিনিক বন্ধ দেখে ফিরে যাচ্ছে।
শ্রীপুর পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবু সাইদ জানান, প্রান্তিক মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতেই এখানে কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ করা হয়েছিল। এই গ্রামের মানুষের চিকিৎসা নেয়ার অন্যতম মাধ্যম ছিল এই কেন্দ্রটি। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের কারণে জীবনের ঝুঁকিসহ নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হওয়ায় গ্রামে সাধারণ মানুষদের চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে।
মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী (কমিউনিটি হেলথ প্রোভাইডার) ফারজানা সুলতানা জানান, মূল ভবনটি এমনভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়েছিল যে পাশ দিয়ে ট্রেন আসা যাওয়ার সময় ভবনটি কাপতো। এরপরও চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রাখতে পাশের মাটির ঘর থেকেই কার্যক্রম পরিচালিত হতো।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা মইনুল হক খান জানান, কয়েক বছর ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চিকিৎসা সেবা বিঘ্নিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট বিভাগে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই ক্লিনিকের কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে চিকিৎসা কর্মী মাথায় আঘাত পেয়েছেন। রোগী ও চিকিৎসকদের জীবননাশের ঝুঁকি থাকায় আপাতত এখানকার চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে এই ক্লিনিকের কার্যক্রম চালানোর জন্য একটি ভবন নির্মাণের জন্য উপজেলা চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা হয়েছে।
শিহাব খান/এফএ/পিআর