নারায়ণগঞ্জের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শীতলক্ষ্যা নদীতে এলোমেলো জাহাজ নোঙর বন্ধে অভিযান শুরু করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। ইতোমধ্যে ছয়টি নৌযানের মালিক, মাস্টার ও ড্রাইভারসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে নৌ আদালতে মামলাও করেছে বিআইডব্লিউটিএ’র নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দর কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিআইডব্লিউটিএ’র নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক শেখ মাসুদ কামাল মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, গত ১৫ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শীতলক্ষ্যা, মেঘনা, বুড়িগঙ্গা, ধলেশ্বরী নদীপথ নিরাপদ করাসহ ছয় দফা দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেন নিরাপদ নৌ রুট চাই নামে একটি সংগঠন। এরপর ২৩ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে নিরাপদ নৌপথ চাই শীর্ষক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়- শীতলক্ষ্যা নদীতে ডুবন্ত নৌযান আগামী ২ মাসের মধ্যে অপসারণ করতে হবে। অন্যথায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে ডুবন্ত নৌযানগুলো জব্দ করে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।
এছাড়া বিভিন্ন কলকারখানা, সিমেন্ট ফ্যাক্টরি, ডকইয়ার্ডসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সামনে এলোপাতাড়ি জাহাজ নোঙর বন্ধে এবং নৌপথের নিরাপত্তায় একটি টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করা হবে। এছাড়া দ্রুত যেসকল নৌযানের রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেস সম্পন্ন হয়নি সেগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দর থেকে প্রতিদিন ৭টি রুটে অন্তত ৭০টি লঞ্চ চলাচল করে থাকে। প্রতিদিন চলাচল করে অসংখ্য পণ্যবাহী নৌযান। ১৩টি খেয়াঘাটে যাত্রীরা পারাপার হচ্ছে ইঞ্জিনচালিত ট্রলার ও নৌকায়। নৌরুট সংকীর্ণ হয়ে পড়ায় বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা। এদিকে গত কয়েকদিন ধরে শীতলক্ষ্যার উভয় তীরে এলোপাতাড়ি জাহাজ নোঙর বন্ধে অভিযানে নামে বিআইডব্লিউটিএ’র নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দর। গত ২ ফেব্রুয়ারি শীতলক্ষ্যার বিভিন্ন তীরে এলোপাতাড়ি নোঙরের কারণে ছয়টি নৌযানের মালিক, মাস্টার ও ড্রাইভারসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে ঢাকাস্থ নৌ পরিবহন অধিদফতরের নৌ আদালতে মামলা করেছেন বিআইডব্লিউটিএ’র নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের সহকারী পরিচালক বাবু লাল বৈদ্য।
বিবাদীরা হলেন- এমভি উমাইজার মালিক মোহসেন উদ্দিন, মাস্টার মো: সাইফুল ইসলাম, ড্রাইভার কাজী মো. আক্কাস আলী, এমভি সিতারার মাস্টার আবুল হোসেন ও ড্রাইভার আব্দুর রহমান শেখ, এমভি ওকিনাওয়া-২ এর মালিক মো. আল হাসান, মাস্টার মো. আবুল কালাম আজাদ, ড্রাইভার আবু তাহের খান, এমভি আটলান্টিসের মালিক এ জেড ফিরোজ কবির চৌধুরী, মাস্টার বাহাদুর হাওলাদার, ড্রাইভার মোস্তফা কামাল, এমভি আল জোবায়ের-৪ এর মালিক মো. মজিবুল হক, এমভি শুকরিয়ার মালিক মো. তৈয়বউল্লাহ। বিআইডব্লিউটিএ’র নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক শেখ মাসুদ কামাল বলেন, বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের সামনে এলোপাতাড়ি জাহাজ নোঙর বন্ধে আমাদের অভিযান চলছে। ইতোমধ্যে ছয়টি নৌযানের মালিক, মাস্টার ও ড্রাইভারসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলা এবং বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের সামনে আমাদের একাধিক টিম গিয়ে সতর্ক করার পরে বন্ধ হয়েছে এলোপাতাড়ি জাহাজ নোঙর। বর্তমানে শীতলক্ষ্যার তীরে অনেকটাই শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
শাহাদাত হোসেন/আরএআর/এমএস