দেশজুড়ে

ভুয়া সনদে পাসপোর্ট করে রোহিঙ্গাদের মালয়েশিয়ায় পাঠায় তারা

কুমিল্লায় মানবপাচারকারী সংঘবদ্ধ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। এ সময় তাদের কাছ থেকে এক নারী ও দুই পুরুষসহ তিন রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেফতাররা হলেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কাপড় চোতালী গ্রামের মৃত আবুল কালামের ছেলে মো. আব্দুর রহিম (২৫), ফজলুল হকের ছেলে নুরুল হক (২৯) ও ডিমাতলী গ্রামের কামাল উদ্দিনের ছেলে ফয়সাল আহাম্মেদ ওরফে রনি (৩২)।

তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ পাসপোর্টসহ নানা সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়। রোববার রাতে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ধোরকড়া বাজার ও চিওড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে র‌্যাব-১১।

সোমবার দুপুরে নগরীর শাকতলার র‍্যাব-১১ সিপিসি-২ এর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাবের কোম্পানি অধিনায়ক মেজর তালুকদার নাজমুছ সাকিব।

তিনি বলেন, চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ধোরকড়া বাজার ও চিওড়া এলাকায় নারীসহ বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গাকে বিদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে জড়ো করা হয়েছে- এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারী চক্রের তিন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।

তাদের কাছ থেকে তিন রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারদের কাছ থেকে ৩৯টি পাসপোর্ট, পাসপোর্ট তৈরির ভুয়া জন্ম সনদ, পাসপোর্ট তৈরির বিভিন্ন ভুয়া কাগজপত্র, সার্টিফিকেট তৈরির কাজে ব্যবহৃত তিনটি কম্পিউটার, দুটি প্রিন্টার, একটি স্ক্যানার, সাতটি মোবাইল ও নগদ ৬০ হাজার ৫৪০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতাররা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র‍্যাবকে জানায়, তারা সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজারের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গাদের প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে পাচার করে আসছিল। কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভুয়া কাগজপত্র ও পাসপোর্ট তৈরি করে রোহিঙ্গাদের মালয়েশিয়া ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাচার করছিল তারা। তাদের বিরুদ্ধে চৌদ্দগ্রাম থানায় মামলা হয়েছে বলেও জানান তালুকদার নাজমুছ সাকিব।

মো. কামাল উদ্দিন/এএম/এমকেএইচ