আইন-আদালত

মুক্তিযোদ্ধা কাদের মোল্লাকে হত্যা করে রাজাকার নিজামুল হক

১৯৭১ সালের ২৫ জুলাই রাজাকার নিজামুল হকসহ সশস্ত্র রাজাকার দল মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদের মোল্লাকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে। আরেক মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলাকেটে হত্যা করে লাশ ফেলে রাখে।

মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় মামলার (আইও) তার অনুসন্ধানের পর প্রতিবেদনে এমন তথ্য দিয়েছে। ৪টি ভলিউমে ৩৯৭ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনে তদন্ত কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধা কাদের মোল্লার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানার সিতারামপুর গ্রামে। তিনি একাত্তর সালে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছিলেন। আর রাজাকার নিজামুল হক একই উপজেলার সাধুহাটি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ২৫ জুলাই রাজাকার আব্দুল মান্নান মিয়া নেতৃত্বে রাজাকার ইনায়েত হোসেন মিয়া, নিজামুল হকের একটি সশস্ত্র রাজাকার দল গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী থানার সিতারামপুর গ্রামে পালতোলা নৌকাযোগে প্রবেশ করে। সেখানে ৯টি বাড়িতে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে।

ওই গ্রাম ও আশপাশ থেকে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক আব্দুল কাদের মোল্লা, মকবুল হোসেন, মো. রওশন আলী মোল্লা, আনোয়ার মীর ও আজাহার শেখদের ধরে নিয়ে যায়। পরে আনোয়ার মীর ও আহাজার শেখকে বার্ধক্যজনিত কারণে ছেড়ে দেয়। আর আর্মিদের সহায়তা রাজাকাররা কাদের মোল্লাকে বেয়নেট দিয়ে খুচিয়ে খুচিয়ে এবং মকুবুল হোসেনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলাকেটে হত্যা করে লাশ ফেলে রাখে।

রাজাকার নিজামুল হকসহ পাঁচ রাজাকারের বিরুদ্ধে তদন্ত সম্পন্ন করেন তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) মো. নূরুল ইসলাম। বাকী চার আসামি হলেন-গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানার বাসিন্দা মোতাহার উদ্দিন সিকদার (৬৫) ও ইনায়েত হোসেন মিয়া ওরফে মোল্লা (৬৫), তদন্তের স্বার্থের বাকী দুই জনের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

এ আসামিদের বিরুদ্ধে একাত্তরে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, আটক, অপহরণ, নির‌্যাতন, হত্যা ও লাশগুমসহ চারটি অভিযোগ আনা হয়েছে। একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার ৭৭তম প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়।

শিগগিরই তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন বরাবর দাখিল করা হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন তদন্ত সংস্থার প্রধান আব্দুল হান্নান খান। এ সময় সংস্থার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এম সানাউল হক উপস্থিত ছিলেন।

আসামিদের মধ্যে একজন গ্রেফতার আছে বাকী চার আসামি একখনও গ্রেফতার হয়নি। আসামিরা গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী থানার বাসিন্দা। আসামিরা সবাই একাত্তর সালে মুসলিম লীগের সমর্থক ছিলেন।

এফএইচ/এমআরএম