আন্তর্জাতিক

করোনা সংকটে ব্যবসায়িক ভ্রমণ বন্ধ করছে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলো

করোনাভাইরাস সংক্রমণ বাড়তে থাকায় কর্মীদের ব্যবসায়িক ভ্রমণ নিষিদ্ধ করতে শুরু করেছে ইউরোপের বড় বড় কোম্পানিগুলো। ফলে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে সেখানকার অর্থনীতিতে।

বিশ্বের বৃহত্তম খাদ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান নেসলে জানিয়েছে, তারা ২ লাখ ৯১ হাজার কর্মীকে মার্চের মাঝামাঝি পর্যন্ত বিদেশ ভ্রমণে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। অভ্যন্তরীণ ভ্রমণের ক্ষেত্রে যেখানে সম্ভব বিকল্প ব্যবস্থা বা যোগাযোগের মাধ্যমে কাজ সারতে হবে। এছাড়া, গত দু’সপ্তাহে ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেন, কানাডা, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রের মতো করোনাভাইরাস সংক্রমিত দেশে ভ্রমণ করা কর্মীদের অন্তত ১৪ দিন যদি সম্ভব হয় বাসায় থেকে কাজ করতে বলেছে প্রতিষ্ঠানটি।

জনপ্রিয় কসমেটিক্স কোম্পানি লরিয়েল জানিয়েছে, করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে আগাম সতর্কতা হিসেবে তারা মার্চ মাসের শেষ পর্যন্ত কর্মীদের সব ব্যবসায়িক ভ্রমণ স্থাগিত করেছে।

কনজ্যুমার জায়ান্ট ইউনিলিভার বলছে, তারা ইতালিসহ ভাইরাস সংক্রমিত দেশগুলোতে যাওয়া-আসায় কর্মীদের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। শুধু ‘অতি জরুরি’ বাণিজ্যিক কাজে বিদেশ যেতে পারবেন বহুজাতিক এ প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা।

করোনাভাইরাসের হাত থেকে বাঁচতে একই ব্যবস্থা নিয়েছে ইতালিয়ান ব্যাংক ইউনিক্রেডিট ও আমস্টারডাম-ভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান প্রোসাস। মার্কিন কৃষিপণ্য প্রতিষ্ঠান কারগিল জানিয়েছে, তারাও কর্মীদের অপ্রয়োজনীয় ব্যবসায়িক ভ্রমণ বাতিল করেছে।

শুধু নেসলে, লরিয়েল ও ইউনিলিভারেরই বিশ্বজুড়ে অন্তত ৫ লাখ ৩২ হাজার কর্মী রয়েছে। যদি আরও কোম্পানি এ ধরনের ব্যবস্থা নেয়, তবে বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়বে বিমান পরিচালনা শিল্প। এমনিতেই করোনাভাইরাস সংক্রমণের পর থেকে চাপের মুখে রয়েছে তারা। অসংখ্য ফ্লাইট বাতিল করে বিমান অলস বসিয়ে রেখেছে বেশ কয়েকটি এয়ারলাইন।

জার্মানির লুফথানসা ও এয়ারফ্রান্স-কেএলএম গত সপ্তাহে ঘোষণা দিয়েছে, তারা কর্মীদের অবৈতনিক ছুটি নিতে বলেছে, পাশাপাশি নতুন কর্মী নিয়োগও বন্ধ রাখা হয়েছে। আগামী এপ্রিলে অনুষ্ঠিতব্য ‘ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট ট্রেনিং কোর্স’ বাতিল করেছে লুফথানসা। এছাড়া, যাত্রীচাহিদা কমে যাওয়ায় অন্তত ১৩টি বিমান বসিয়ে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি। একই কারণে লন্ডন-মিলান চলাচলকারী ফ্লাইট কমিয়ে দিয়েছে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক তেল কোম্পানি শেভরন জানিয়েছে, তাদের লন্ডন ক্যানারি হোয়ার্ফ অফিসের এক কর্মী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় গত মঙ্গলবার থেকে সেখানকার তিন শতাধিক কর্মী বাসায় বসে কাজ করছেন।

ইতোমধ্যে ইউরোপের দেশগুলোতে আতঙ্ক ছড়াতে শুরু করেছে প্রাণঘাতী এই ভাইরাস। গত এক সপ্তাহে এ অঞ্চলের অন্তত ১১টি দেশে ধরা পড়েছে করোনাভাইরাস। এর মধ্যে রয়েছে গ্রিস, ডেনমার্ক, অস্ট্রিয়া, এস্তোনিয়া, রোমানিয়া, উত্তর মেসিডোনিয়া, সুইজারল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া, নরওয়ে, স্পেন প্রভৃতি।

একই সময় মধ্যপ্রাচ্যের দেশ লেবানন, ওমান, ইসরায়েল, বাহরাইন, কুয়েতে ছড়িয়ে পড়েছে এই ভাইরাস। এছাড়া এশিয়ার দেশ আফগানিস্তান, পাকিস্তান; দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিল, উত্তর আফ্রিকার আলজেরিয়াতেও পাওয়া গেছে কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগী।

ইতোমধ্যে বিশ্বের অন্তত ৫৪টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে নভেল করোনাভাইরাস। বিশ্বজুড়ে এতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮৫৮ জন, আক্রান্ত ৮৩ হাজার ৩৮৯জন। এর মধ্যে শুধু চীনেই আক্রান্ত ৭৮ হাজারের বেশি, আর মারা গেছেন অন্তত ২ হাজার ৭৮৮ জন।

সূত্র: সিএনএন

কেএএ/এমএস