দেশজুড়ে

এবার হাওর ডুবলে ঘেরাও কর্মসূচি

নির্ধারিত সময় ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সুনামগঞ্জের ১১টি উপজেলার হাওরে বেড়িবাঁধের কাজ শেষ না হওয়ায় সংবাদ সম্মেলন করেছে হাওর বাঁচাও আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটি। শনিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে শহরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাঠাগারে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

হাওর বাঁচাও আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ানের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায়।

লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হাওর রক্ষা বাঁধের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সংগঠনের সকল উপজেলা কমিটি থেকে পাওয়া তথ্য ও সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রদত্ত তথ্যানুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাঁধের কাজ শেষ করা হয়নি বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। শুরু থেকেই আশঙ্কা করা হয়েছিল এবারও সঠিক সময়ে কাজ শেষ হবে না। তাই প্রমাণিত হলো। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসককে আমরা স্মারকলিপি দিয়েছি, মানববন্ধন করেছি। হাওর বাঁচাওয়ের দাবি ছিল প্রকাশ্যে সমাবেশের মাধ্যমে পিআইসি গঠন করার জন্য। কিন্ত এই দাবি মানা হয়নি। প্রশাসনের খেয়াল খুশি মতো ইউএনও কার্যালয়ে বসে পিআইসি গঠন করা হয়েছে। যে কারণে সঠিক সময়ে কাজ শুরু হয়নি, শেষও হলো না।

লিখিত বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয় , কয়েকদিন যাবত বিভিন্ন উপজেলায় পিআইসি সভাপতি/সদস্য সচিবকে আটক করে মুচলেকার মাধ্যমে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। গ্রেফতার করে হাজতে প্রেরণ করা হচ্ছে। কাজের শেষ সময়ে এসে এসব কেন? এখনতো প্রশাসনের উচিত আনুষ্ঠানিকভাবে বাঁধের কাজ শেষ ঘোষণা করা। এগুলো সময় বাড়ানো এবং নিজেদের ওপর থেকে দায় এড়ানোর পাঁয়তারা কি-না? যথাযত সময়ের মধ্যে বাঁধের কাজ শেষ না হওয়ার ফলে হাওর ডুবে গেলে এর দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে। পাউবোর অগ্রগতি প্রতিবেদনেও হাওরের কাজের সঙ্গে কোনো মিল নেই বলে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়- এবার হাওর রক্ষা বাঁধে দিরাই-শাল্লা, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি অনিয়ম ও দুর্নীতি হচ্ছে। গত তিন দিনে জেলার বিভিন্ন উপজেলার পিআইসি সভাপতিদের গ্রেফতারের হিড়িক পড়েছে। কাজের শুরু থেকে পিআইসিকে চাপে রাখলে ২৮ ফেব্রুয়ারির আগেই কাজ শেষ হয়ে যেতো। হাওরের কোনো বিপর্যয় হলে এর দায় প্রশাসনকে নিতে হবে। সুনামগঞ্জের কৃষকদের নিয়ে প্রয়োজনে পাউবো অফিস, ডিসি অফিস, ইউএনও অফিস ঘেরাও কর্মসূচিসহ আদালতে মামলা করে কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে হাওর বাঁচাও আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটি। এ সময় নির্ধারিত সময়ে বাঁধের কাজ সমাপ্ত না করার প্রতিবাদে আগামী ২ মার্চ থেকে জেলা সদর থেকে জেলার সকল উপজেলা সদর ও ইউনিয়ন পর্যায়ে পথসভা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা রমেন্দ্র কুমার দে মিন্টু, সহসভাপতি সুকেন্দু সেন, সিনিয়র সদস্য মুক্তিযোদ্ধা মালেক হোসের পীর, ডা. মুরশেদ আলম, ইয়াবুব বখত বাহলুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সালেহীন চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক এমরানুল হক চৌধুরী, একে কুদরত পাশা, সদর উপজেলা কমিটির সভাপতি স্বপন কুমার দাস, সহসভাপতি চন্দন কুমার রায়, সাধারণ সম্পাদক শহীদনূর আহমেদ, মানব চৌধুরী, সাবেক কাউন্সিলর মতিলাল চন্দ, আনোয়ারুল হক, দিরাই উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শামছুল ইসলাম সরদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মোসাইদ রাহাত/আরএআর/জেআইএম