দেশজুড়ে

যশোরের প্রথম শহীদের সমাধি দখল, শ্রদ্ধা নিবেদন হলো না

মহান মুক্তিযুদ্ধে যশোরের প্রথম শহীদ চারুবালা করের সমাধিস্থল দখল ও স্মৃতিফলক নিশ্চিহ্ন করে বসতবাড়ি ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার শহীদের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে গিয়ে ফিরে এসেছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নেতৃবৃন্দ।

ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা শহরের বকুলতলাস্থ বঙ্গবন্ধু স্মৃতি ম্যুরালে প্রতীকী শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন। বিষয়টি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে তাকে অবহিত করেন নেতৃবৃন্দ। এসময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ জানান, বিষয়টি তার জানা ছিল না। অবহিত হলেন, ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের নীলগঞ্জ মহাশ্মশানের পাশে নদীর ধারে প্রগতি বালিকা বিদ্যালয়ের পেছনে মাটির সঙ্গে মিশে আছে চারুবালা করের সমাধি। যার উপর দিয়ে বাড়ি তুলেছেন নীলগঞ্জ এলাকার এক বাসিন্দা। এক পাশে শুধু এক লাইন ইটের সারি ছাড়া আর কিছুই নেই সেখানে। শেষ চিহ্নটুকুও আর নেই সেখানে। মঙ্গলবার শ্রদ্ধা নিবেদন করতে না পেরে ফিরে আসেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নেতৃবৃন্দ। এরপর জেলা প্রশাসককে অবহিত করে শহরের বকুলতলায় অবস্থিত ‘বঙ্গবন্ধু স্মৃতি মুর্যালে’ শ্রদ্ধার্ঘ অর্পণ করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি যশোরের সভাপতি হারুণ অর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক সাজেদ রহমান বকুল, জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তরিকুল ইসলাম তারু, সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার আলম খান দুলু, মুক্তিযোদ্ধা রাজেক আহমেদ, একেএম খয়রাত হোসেন, আফজাল হোসেন দোদুল, তির্যক যশোরের সাধারণ সম্পাদক দীপংকর দাস রতন, চাঁদের হাট যশোরের সভাপতি ফারাজি আহমেদ সাঈদ বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাকিব সরদার অপু, বিবর্তন যশোরের সহ সভাপতি নওরোজ আলম খান চপল, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান রিপন, সুরধুনী যশোরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক যোগেশ দত্ত, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের সহসভাপতি প্রণব দাস প্রমুখ।

সাংবাদিক মুক্তিযুদ্ধ গবেষক ফখরে আলমের লেখা ‘মুক্তিযুদ্ধের জানা-অজানা’ বইয়ে উল্লেখ আছে, ‘৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণের আগে দেশ উত্তাল হয়ে ওঠে। ১ মার্চ রেডিও পাকিস্তান থেকে প্রেসিডেন্টের বরাত দিয়ে খবর প্রচারিত হয় সংসদ অধিবেশন মূলতবি করার। এ খবর শুনে যশোরের মুক্তিকামী ছাত্র জনতা মিছিল বের করে। ৩ মার্চ যশোর টাউন হল মাঠে মুক্তিকামী মানুষ সমাবেত হয়। তৎকালীন এমপিও মশিয়ুর রহমান, মোশাররফ হোসেন জনতার উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন। এরপর বের হয় বিক্ষোভ মিছিল। মিছিলটি টিএন্ডটি ভবনের সামনে পৌঁছলে ওই ভবনে থাকা পাকিস্তান হানাদার বাহিনী গুলি ছোঁড়ে। গুলিতে নিহত হন চারুবালা কর।

মিলন রহমান/এমএএস/এমএস