কুড়িগ্রামে সাংবাদিক আরিফুল ইসলামকে মধ্যরাতে নিজ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আাদালতের মাধ্যমে সাজা দেয়ার বিষয়টিকে বেআইনি বলে উল্লেখ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।
রোববার (১৫ মার্চ) সাংবাদিক আরিফুলকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিটের শুনানিতে আদালতে তিনি বলেছেন, ‘কুড়িগ্রামে মধ্যরাতে সাংবাদিক আরিফুল ইসলামকে বেআইনিভাবে সাজা দেয়া হয়েছে। সারা দেশের মানুষের সেন্টিমেন্ট এখন এই দিকে। আমরা জনস্বার্থে বিষয়টি নিয়ে আপনাদের কাছে এসেছি। মানুষ আদালতের কাছে, বিচার বিভাগের কাছে দায়ীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ প্রত্যাশা করে। মানুষের দৃষ্টি এখন আদালতের দিকে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কুড়িগ্রামের ঘটনা বা অবিচারের মতো কোনো ঘটনা ঘটলে, কোথাও কিছু না হলেও অন্তত (আদালতে) হাইকোর্টে তার প্রতিকারে কিছু একটা হবে। এই প্রত্যাশা করে দেশের মানুষ।’
আদালতে আরও শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান।
এদিকে, কুড়িগ্রামে মধ্যরাতে সাংবাদিককে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে জেলা প্রশাসনের (ডিসি) ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড দেয়ার বিষয়টি পরিচালনা করেছেন তা রাষ্ট্রপক্ষের কাছে জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।
এ সংক্রান্ত রিটের শুনানিতে রোববার (১৫ মার্চ) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ নির্দেশনা দেন। আর এ বিষয়ে আগামীকাল সোমবার (১৬ মার্চ) হাইকোর্টকে জানাবে রাষ্ট্রপক্ষ। এ বিষয়ে আজ প্রাথমিক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরে আরও শুনানির জন্যে আগামীকাল দিন ঠিক করেছেন আদালত।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনের সাংবাদিককে কারাদণ্ড দেয়ার আদেশের কপি তলব করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ওই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত না টাস্কফোর্সের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করেছেন তা জানতে চান আদালত।
এর আগে, সকালে কুড়িগ্রামে মধ্যরাতে বাড়ির দরজা ভেঙে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অনলাইন পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনের জেলা প্রতিনিধি আরিফুল ইসলামকে কারাদণ্ড দেয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়।
১৩ মার্চ মধ্যরাতে কুড়িগ্রাম ডিসি অফিসের দুই-তিন জন ম্যাজিস্ট্রেট ১৫-১৬ জন আনসার সদস্যকে নিয়ে সাংবাদিক আরিফুলকে বাসা থেকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় তারা কোনো তল্লাশি বা অভিযান চালাননি। পরে ডিসি অফিসে নেয়ার পর তারা দাবি করেন, আরিফুলের বাসায় আধা বোতল মদ ও ১৫০ গ্রাম গাঁজা পাওয়া গেছে। আরিফুলকে রাতেই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এক বছরের সাজা দেয়া হয়।
জানা যায়, জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন একটি পুকুর সংস্কার করে নিজের নামে নামকরণ করতে চেয়েছিলেন। আরিফুল এ বিষয়ে নিউজ করার পর থেকেই তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন ডিসি। এছাড়া, সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে রিপোর্ট করতে চেয়েছিলেন সাংবাদিক আরিফ। এ বিষয়ে জানতে পেরে জেলা প্রশাসকের অফিস থেকে তাকে বেশ কয়েকবার ডেকে নিয়ে সতর্ক করা হয়।
এফএইচ/এফআর/জেআইএম