আইন-আদালত

নির্যাতিতের পক্ষে দাঁড়ালেন সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি ও সুমন

নির্যাতিত সাংবাদিকের পক্ষে দাঁড়িয়ে মামলা পরিচালনা করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এ এম আমিন উদ্দিন। আদালতে তার সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দিন আদালতের শুনানিতে বলেছেন, সাংবাদিকরা হচ্ছেন সমাজের দর্পণ। তারাই সমাজের নানা ত্রুটি-বিচ্যুতি তুলে ধরেন। সাংবাদিকরা জেগে থাকলে সমাজে অন্যায় কম হয়। কুড়িগ্রামে মধ্যরাতে বাসার দরজা ভেঙে মোবাইল কোর্ট বসিয়ে একজন সাংবাদিককে যেভাবে দণ্ড দেয়া হয়েছে তা ক্ষমতার অপব্যবহার ছাড়া কিছুই নয়।

সোমবার হাইকোর্টের বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে কুড়িগ্রামের সাংবাদিক আরিফের পক্ষে শুনানিতে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, সাংবাদিক আরিফের অপরাধ তিনি ডিসির বিরুদ্ধে নিউজ করেছেন। নিউজে কোনো ভুল থাকলে তার জন্য প্রেস কাউন্সিল আছে। মানহানির মামলা করার সুযোগ ছিল। কিন্তু তা না করে গভীর রাতে বাসার দরজা ভেঙে মোবাইল কোর্ট বসিয়ে সাজা দেয়া হয়েছে। এটা অন্যায় এবং ক্ষমতার অপব্যবহার।

আদালত বলেন, সংবাদপত্র হচ্ছে সমাজের চতুর্থ স্তম্ভ। এই চতুর্থ স্তম্ভ (সাংবাদিকরা) যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করে তাহলে রাষ্ট্রের বাকি তিন স্তম্ভ (আইন সভা, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগ) সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করে।

শুনানি শেষে আদালত মধ্যরাতে বাসার দরজা ভেঙে সাংবাদিক আরিফুলকে সাজার মামলার নথি তলব করেন। পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী সোমবার (২৩ মার্চ) দিন ধার্য করেন আদালত। রিটের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল দেবাশীষ ভট্টাচার্য।

উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিন স্বপ্রণোদিত ভাবে সাংবাদিক আরিফের পক্ষে রিট মামলায় শুনানি করেন। এজন্য তিনি কোনো ফি নেননি।

এফএইচ/এমএফ/জেআইএম