প্রবাস

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিসহ ১০ জন কোয়ারেন্টাইনে

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিসহ ১০ জনকে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ) দেশটির সেলায়াং পাসার পাইকারি বাজারে কুয়ালালামপুর সিটি হল (ডিবিকেএল) ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় (এমওএইচ) পরিচালিত দুই ঘণ্টার যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় ৪০০ জন বিদেশি কর্মীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে ১০ জনের জ্বর-কাশি থাকায় কোয়ারেন্টাইনে পাঠিয়েছেন তারা।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২ মার্চ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত সেরি পেতালিং মসজিদে তাবলীগ জামাতে অংশ নিয়েছিলেন তারা। তাদেরকে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে থাকার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ডিবিকেএল করপোরেট পরিকল্পনা বিভাগের পরিচালক খায়রুল আজমির আহমদ জানান, এ দোকানগুলো রাত ১০টা থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত চালু থাকে।

তিনি আরও বলেন, আমরা যখন সেখানে পৌঁছাই তখন তারা আমাদের দেখে পালানোর চেষ্টা করছিল। কারণ তারা ভেবেছে তাদেরকে গ্রেফতার করতে এসেছি। কিন্তু আমাদের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল তাদেরকে কোভিড-১৯ এর হেলথ স্ক্রিনিং টেস্ট বা করোনার উপস্থিতি পরীক্ষা করা। সেসময় আমরা ৪০০ বিদেশি কর্মীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে ১০ জন কর্মীকে চিহ্নিত করতে সক্ষম হই, যাদের জ্বর, কাশি ও ফ্লু জাতীয় রোগের উপস্থিতি ছিল। ১০ কর্মীর মধ্যে মিয়ানমার, বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক রয়েছে বলে জানান তিনি। তবে কোন দেশের কতজন সেটা নিশ্চিত করেননি।

ডিবিকেএল সবসময় শহরের বাজারগুলোতে কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে সহোযোগিতা করে আসছে বলে জানান তিনি।

এদিকে মালয়েশিয়ায় অবৈধ প্রবাসীদের গ্রেফতার করা হবে না বলে জানিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী সাবরি। পুরো মালয়েশিয়ায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার লকডাউনসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। হাসপাতালে আক্রান্তদের চিকিৎসার ক্ষেত্রেও কোনো ত্রুটি রাখছে না। বিপুল পরিমাণ বাজেট করা হয়েছে করোনা প্রতিরোধে।

তাবলীগ ইজতেমায় অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে প্রায় ১ হাজারের বেশি আক্রান্ত হয়েছে এ ভাইরাসে। পুলিশের দেয়া তথ্যমতে ইজতেমায় প্রায় দেড় হাজার রোহিঙ্গা ও বাস্তুচ্যুত অংশগ্রহণ করেছে যাদের ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষার আহ্বান জানিয়েছে তারা। মালয়েশিয়া সরকার দেশটিতে থাকা অবৈধ প্রবাসী বা আনডকুমেন্টেড অভিবাসীদের দ্রুত সময়ের মধ্যে হাসপাতালে গিয়ে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন। যদি কারো শরীরে করোনার লক্ষণ থাকে এক্ষেত্রে একজন মানুষ বা একজন রোগী হিসেবেই চিকিৎসা দেয়া হবে ভিসা আছে কী নেই, কোম্পানির মেডিকেল কার্ড আছে কী নেই সেটা যাচাই করা হবে না। তাই অবৈধদের ভয় না পেয়ে নিশ্চিন্তে মেডিকেল চেকআপের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

মালয়েশিয়ার মেডিসিন স্যানস ফ্রন্টিয়ারস (এমএসএফ) মিশনের প্রধান বিট্রিস লাউ বলেছেন, সরকারের ১০/২০০১ সার্কুলার বাতিল করা উচিত যাতে অবৈধ অভিবাসীদের চিকিৎসা বিষয়ে পুলিশ এবং ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের কাছে জবাবদিহি না করতে হয়।

তিনি ২৪ মার্চ এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, প্রায় ২০ বছর আগে প্রথম সার্কুলার ১০/২০০১ প্রণয়নের পর থেকে মালয়েশিয়ায় অবৈধ হয়ে যাওয়া অভিবাসীরা চিকিৎসা সেবা না পেয়ে হুমকির মধ্যে জীবন কাটিয়ে আসছেন। গত ২২ মার্চ প্রতিরক্ষামন্ত্রী দাতুক সেরি ইসমাইল সাবরির ঘোষণা অনুযায়ী কোভিড -১৯ এর উপস্থিতি সন্দেহে হাসপাতালে বা ক্লিনিকে গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার সময় সরকারের কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেবে না বলে আশ্বস্ত করেছেন।

এদিকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দেশটিতে চলাচলের ওপর আরোপিত বিধি-নিষেধের মেয়াদ আরও দুই সপ্তাহ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। প্রাণঘাতী করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় বুধবার তিনি এই ঘোষণা দেন।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী মুহিদ্দীন ইয়াসিন বুধবার জানান, দেশে নতুন করে আরও ১৭২ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে দেশটিতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৯৬ জনে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে যা সর্বোচ্চ। এছাড়া মারা গেছে এখন পর্যন্ত ২০ জন।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে গত ১৬ মার্চ দেশব্যাপী ‘লকডাউন’ ঘোষণা করে মালয়েশিয়া সরকার। ওইদিন স্থানীয় সময় রাত ১০টায় জাতির উদ্দেশে দেয়া এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী মুহিদ্দীন ইয়াসিন এ ঘোষণা দেন। সেই লকডাউনের মেয়াদ ছিল ৩১ মার্চ পর্যন্ত। এবার তা বেড়ে হয়েছে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত।

মালয়েশিয়া সরকার ঘোষিত ‘লকডাউন’ সময়ে শ্রমিকদের বেতন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সরকার ঘোষিত এই বন্ধের আদেশের দিনগুলোতে শ্রমিকদের বেতন ও অন্যান্য সুবিধা দিতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে নিয়োগদাতা ও মালিক পক্ষকে।

এমএফ/জেআইএম