প্রবাস

স্লোভেনিয়ায় বেড়েই চলেছে করোনা রোগী, চরম আতঙ্কে প্রবাসীরা

মধ্য ইউরোপের দেশ স্লোভেনিয়ায় প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে কোভিড-১৯ খ্যাত নোভেল করোনাভাইরাসে সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা। এ পর্যন্ত দেশটিতে সবমিলিয়ে ৪৮১ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে।এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের সংখ্যা রাজধানী লুবলিয়ানাতে এবং এরপর পর্যায়ক্রমে ক্রানিয়ে ও ছেলইয়েতে। এ অবস্থায় চরম আতঙ্কে রয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

এদিকে স্লোভেনিয়ায় করোনাভাইরাসের প্রভাবে এ সপ্তাহে আরও নতুন করে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার স্থানীয় সময় দুপুর দুইটায় স্লোভেনিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী টমাজ গ্যানটারের পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

এদের মধ্যে একজন স্লোভেনিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর ম্যাটলিকায় বসবাস করতেন। এই নারী সম্প্রতি প্যারিস ভ্রমণ করেছিলেন এবং মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল প্রায় ৯২ বছর। তবে তিনি শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন ধরণের বার্ধক্যজনিত শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন।

স্লোভেনিয়ায় দ্রুত ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় আতঙ্ক বিরাজ করছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে।

এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী বলেন, করোনারভাইরাসের কারণে আমরা সবাই আতঙ্কগ্রস্ত।প্রায় এক সপ্তাহ হবে ঘরে বসে সময় কাটাচ্ছি। একের পর এক সব এলাকা লকডাউন হওয়ায় ভয় ভয় লাগছে। যতটুকু পারছি জনসমাগম হয় এমন স্থান আমরা বর্জন করার চেষ্টা করছি।

অন্যদিকে গতকাল স্লোভেনিয়ার রাজধানী লুবলিয়ানাতে ৬৭ বছর বয়সী আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে।কোভিড-১৯ এর পাশাপাশি তারও অন্যান্য বেশ কিছু শারীরিক সমস্যা ছিল বলেও দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দাবি করেছে।

এর আগে করোনা ভাইরাসের বিস্তার প্রতিরোধে সম্পূর্ণ স্লোভেনিয়া লকডাউন করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিলও যা এখনও অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে খুব বেশি প্রয়োজন না থাকলে কাউকে ঘরে থেকে বাহিরে বের না হওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাস, ট্রেনসহ সকল ধরনের পাবলিক ট্রান্সপোর্ট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। লুবলিয়ানাতে অবস্থিত স্লোভেনিয়ার একমাত্র এয়ারপোর্ট ইয়োজে পুচনিক ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকেও গত ১৭ মার্চ থেকে সকল ধরনের ফ্লাইট পরিস্থিতির উন্নতি না ঘটা পর্যন্ত সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।

পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ইতালির মতো ক্রোয়েশিয়া এবং হাঙ্গেরির সাথেও সাময়িকভাবে সীমান্ত সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে। কিছু নির্দিষ্ট পয়েন্ট ছাড়া অন্যান্য সকল জায়গায় প্রতিবেশী অস্ট্রিয়ার সঙ্গেও স্লোভেনিয়ার সীমান্ত যোগাযোগ সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে।

এশিয়াসহ ইউরোপের বাহিরে বিভিন্ন দেশে প্রায় দুইশো এর অধিক স্লোভেনিয়ার নাগরিক আটকা পড়েছেন এবং তাদেরকে খুব দ্রুত নিজ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শিগগিরই কাজ শুরু করার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

হাসপাতাল, ফার্মেসি, পোস্ট অফিস, ব্যাংক, বিভিন্ন সুপার শপ কিংবা খাবারের দোকান অর্থাৎ নিত্য প্রয়োজনীয় সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্যান্য সবধরনের প্রতিষ্ঠান সরকারের নির্দেশ মোতাবেক বন্ধ রয়েছে। স্পার, হফার, লিডল, ফামা ডিএমসহ যে সকল সুপারশপ রয়েছে তারা এ পরিস্থিতিতে তাদের কর্মঘণ্টা কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং একই সময় একজনের অধিক কিংবা একই পরিবারের সদস্য ছাড়া অন্য কাউকে অনেক সময় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।

স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাবলিক প্লেসগুলোতে সকল ধরণের গণজমায়েতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে যে নিরাপদ দূরত্ব বজায় না রেখে যদি কোনো উন্মুক্ত স্থানে একই সাথে পাঁচ জন যদি একত্রিত হয় তাহলে তাদের প্রত্যেককে চারশো ইউরো জরিমানা করা হবে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের প্রভাবে অন্যান্য অনেক দেশের মতো স্লোভেনিয়ায়ও অর্থনৈতিক এবং পর্যটন খাতে থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকাগুলো এখন প্রায় জনশূন্য। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে স্লোভেনিয়ার সরকারের ম্যাক্রোইকোনোমিক অ্যানালাইসিস সেন্টারের পক্ষ থেকে চলতি অর্থ বছরে দেশটির প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছিলও সাড়ে তিন শতাংশ যেটি দেড় শতাংশ অর্থাৎ প্রায় অর্ধেকে নেমে আসতে পারে বলে দেশটির অনেক অর্থনীতিবিদ ধারণা করছেন।

বিশেষ করে বার, রেস্টুরেন্ট কিংবা বিভিন্ন ফ্যাক্টরি বন্ধ থাকায় দেশটির অনেক মানুষই বিপাকে পড়েছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতির সামাল দিতে স্লোভেনিয়ার বর্তমান অর্থমন্ত্রী আন্দ্রেই শিরচেলি বিভিন্ন মেয়াদে সহজ শর্তে ঋণ ও বিভিন্ন ধরণের আর্থিক সাহায্য প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন।

এমআরএম/জেআইএম