জাতীয়

রোগীর ভিড় নেই চমেক হাসপাতালে

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় মনে হবে ওই ভবনে হয়তো গুরুত্বপূর্ণ কোনো পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মাঝে মাঝে ইমার্জেন্সিতে এক বা দুইজন রোগী আসছেন। হাসপাতালের বহির্বিভাগ এক প্রকার বন্ধ রাখা রয়েছে।চারদিকে শুনশান নীরবতা, আগের সেই চিৎকার চেঁচামেচি, হট্টোগোল কিছুই নেই।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দেখা যায়, চিকিৎসক কক্ষের দরজার সামনে একটি খালি শয্যা দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছে, যেন ভেতরে কেউ যেতে না পারেন। কক্ষের বাইরে আরেকটি বেডে রোগীকে বসিয়ে বা শুইয়ে স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সমস্যা বা উপসর্গ শুনে পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসক। যেকোনো রোগীর ক্ষেত্রেই এভাবে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

হাসপাতালের জরুরি ও বহির্বিভাগে টিকিট সংগ্রহের নেই হুড়োহুড়ি।জরুরি বিভাগের টিকিট কাউন্টারে কর্মরত মো. কাইয়ুম জাগো নিউজকে বলেন, ‘গত চারদিন ধরে হাসপাতালে রোগী ভর্তির সংখ্যা একেবারেই কমে গেছে। আগে প্রতিদিন যেখানে ১৫০০-২০০০ টিকিট বিক্রি হত, সেখানে এখন সাত-আটশর মতো টিকিট বিক্রি হচ্ছে।হাসপাতালে রোগী ভর্তি আরও কম। করোনা আতঙ্কে রোগীরা আসছে না।’

এ সময় জরুরি বিভাগে থাকা চিকিৎসকের সঙ্গে চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। উপস্থিত পুলিশ সদস্যরাও এ নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

তবে চমেক হাসপাতালের ওষুধের স্টোরে কাজ করেন এমন একজন জাগো নিউজকে বলেন, ‘রোগী ভর্তি নেই তাই ওষুধ বিক্রি অর্ধেকের নিচে নেমেছে। যতটুকু জানি গত এক সপ্তাহ ধরে অ্যাডমিন থেকেই রোগী ভর্তি করা হচ্ছিল না। এ কারণে রোগীর সংখ্যা কমে গেছে। এছাড়া ভর্তি নেয়া হচ্ছে না এ খবরে রোগীরাও হাসপাতালে আসছেন না। এখন হাসপাতালে মূলত ডেলিভারি ও দুর্ঘটনায় আহতদের ভর্তি করা হচ্ছে। এছাড়া অনেকে করোনা আতঙ্কে হাসপাতাল ছেড়ে চলে যাচ্ছেন।’

এদিকে চট্টগ্রাম নগরীর বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত সেবা না পেয়ে হাসপাতাল ছাড়ছেন সাধারণ রোগীরা। বিভিন্ন হাসপাতালে সর্দি-কাশি নিয়ে আসা রোগীদের চিকিৎসা বন্ধই করে দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) নগরীর বেশ কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতাল সরেজমিনে ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

চট্টগ্রামের সুপরিচিত বেসরকারি হাসপাতাল সিএসসআর-এ দেখা যায়- বিশাল ভবনে হাতেগোনা কয়েকজন মানুষ ঘোরাফেরা করছেন। দরজায় ঠাঁই দাঁড়িয়ে রয়েছেন দারোয়ানরা। পায়ে হেঁটে কয়েক তলা ঘুরে দেখলেও রোগী বলে কাউকে মনে হয়নি।ডাক্তারের চেম্বারেও কোনো ভিড় নেই।

হাসপাতালে রিসিপশনিস্ট আমান জানান, রোগীরা তার কাছে রোগের লক্ষণ বলার পর চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করতে পারেন। গত এক সপ্তাহ ধরে কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সর্দি-কাশির কোনো রোগীকেই চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না। এ কারণে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা কমে গেছে।

জিইসি মোড় এলাকায় কথা হয় মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালে আসা সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি জানান, গত কয়েকদিন ধরে জ্বর, সর্দি-কাশিতে ভুগছেন। আজ তার শ্বাসকষ্ট শুরু হলে হাসপাতালে ভর্তির চেষ্টা করেন। কিন্তু ভর্তি নেয়া হয়নি। আইইডিসিআরের হটলাইনে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

নগরীর গোল পাহাড় এলাকার বেসরকারি হাসপাতাল হেল্থ পয়েন্টেও দেখা যায় একই অবস্থা। হাসপাতালের নিরাপত্তারক্ষী আমজাদ জানান, নতুন রোগী আসছে না কয়েকদিন ধরে। যারা আসছেন তাদের সবাই পুরোনো রোগী।

চট্টগ্রামের অন্যতম সেরা বেসরকারি হাসপাতাল মেট্রোপলিটনে এ বিষয়ে জানতে চাইলে দায়িত্বশীল কেও-ই কথা বলতে রাজি হননি। তবে বেসরকারি একটি হাসপাতালের এক চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাগো নিউজকে বলেন, ‘করোনাভাইরাস পরীক্ষা করার কোন ব্যবস্থা আমাদের হাসপাতালে নেই। এখন একজন রোগীকে ভর্তি করানোর পর যদি করোনা পাওয়া যায়, তখন সেটি অন্যদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়বে। আমরা এ ঝুঁকি নিতে চাই না। এ কারণে রোগীদের সরকার নির্ধারিত হাসপাতালগুলোয় যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

আবু আজাদ/এএইচ/পিআর