শিক্ষা

টেলিভিশনে ত্রুটিপূর্ণ ক্লাস, বুঝছে না শিক্ষার্থীরা

করোনাভাইরাসের বিস্তাররোধে গত ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি বাড়ানো হয়েছে। এ সময় শিক্ষার্থীদের পাঠদানের ধারাবাহিকতা রাখতে সংসদ টেলিভিশনের মাধ্যমে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির পাঠদান শুরু করা হলেও ত্রুটিপূর্ণ ক্লাস কার্যক্রম হওয়ায় তা শিক্ষার্থীদের কাছে আনন্দদায়ক হয়ে উঠছে না। আবার কোনো কোনো শিক্ষার্থী ক্লাস করে কিছুই বুঝতে পারছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ত্রুটিযুক্ত সংক্ষিপ্ত ক্লাসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শেখানো সম্ভব নয় বলে মনে করেন শিক্ষকরা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রথম ধাপে গত ২৯ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির ক্লাস রুটিন প্রকাশ করা হয়। এরপর বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় ধাপে আগামী ৯ এপ্রিল পর্যন্ত সংসদ টেলিভিশনে পাঠদান সম্প্রচারের রুটিন প্রকাশ করা হয়।

মাউশি থেকে জানা গেছে, করোনা আতঙ্কের কারণে পাঠদান কার্যক্রমের জন্য শিক্ষক, টেকনিশিয়ান ও ক্যামেরাপারসন পাওয়া যাচ্ছে না। পাওয়া গেলেও টাইমিং করানো যাচ্ছে না। এ অবস্থায় রুটিন অনুসারে বিষয়ভিত্তিক মিল রেখে ক্লাস প্রচার করা হচ্ছে না। ১১ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি ছুটি ঘোষণা করায় আপাতত সে পর্যন্ত ক্লাসগুলো রেকর্ডিং করা হয়েছে। তবে কোন ক্লাসের কোন বিষয়ে রেকর্ডিং হয়েছে তা জানা যায়নি।

অন্যদিকে করোনা পরিস্থিতির কারণে শুরু থেকেই রুটিন অনুযায়ী ক্লাস প্রচার করতে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না পাওয়ায় এবং টেকনিশিয়ানের অভাবে এক বিষয়ের স্থলে অন্য বিষয়ের ক্লাস নিতে হচ্ছে। দ্বিতীয় দফায় এটি থাকবে না বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন।

রাজধানীর একাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক জানান, টিভিতে প্রচারিত ক্লাসে কয়েকটি বড় সমস্যা রয়েছে। তার মধ্যে প্রথমটি হলো সাউন্ড। যারা ইউটিউব বা লাইভে ক্লাস শোনেন তাদের শব্দগত সমস্যায় বেশি পড়তে হচ্ছে। আলাদা সাউন্ডবক্স লাগিয়েও শোনা যাচ্ছে না। দ্বিতীয়টি হলো ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক এবং সাদা বোর্ড ব্যবহার করায় অনেক বিষয় বোঝা যায় না। বিশেষ করে বিজ্ঞান, গণিত ও ইংরেজির বিষয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে। সূত্রগুলো যখন বোঝানো হয় তখন একদিকে সাউন্ডের সমস্যা অন্যদিকে সাদা বোর্ডের সমস্যা।

শিক্ষার্থীরা জানায়, সংসদ টেলিভিশনের মাধ্যমে ক্লাসগুলোতে বিস্তারিত আলোচনা করা হয় না, ভালোভাবে বোঝানো হয় না। যার জন্য বাসার কাজ (হোমওয়ার্ক) যা দিচ্ছে তা সম্পন্ন করা কঠিন হয়ে পড়ছে। যেহেতু বাসার কাজের ওপর ক্লাসে ধারাবাহিক মূল্যায়ন করা হবে তাই তারা দুশ্চিন্তায় পড়েছে বলে অভিযোগ করে।

ত্রুটিপূর্ণ অসমাপ্ত ক্লাসের মাধ্যমে পাঠদান শিক্ষার্থীদের কোনো উপকারে আসবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম রনি। তিনি বৃহস্পতিবার জাগো নিউজকে বলেন, সংসদ টেলিভিশনে যেসব ক্লাস করানো হচ্ছে তা দিয়ে সিলেবাস শেষ করা গেলেও শিক্ষার্থীদের কিছু শেখানো সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, অদক্ষ শিক্ষকদের মাধ্যমে টেলিভিশনে ক্লাস নেয়া হচ্ছে, তারা বিষয়ভিত্তিক বিস্তারিত আলোচনা করতে না পারায় শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারছে না। যেসব হোমওয়ার্ক দেয়া হচ্ছে তাও করতে পারছে না।

দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকদের যুক্ত করার দাবি জানিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনের হোমওয়ার্ক মূল্যায়নে নিয়মিত ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের অনলাইনে মূল্যায়ন কাজে নিয়োজিত করার দাবি জানান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক চৌধুরী বৃহস্পতিবার জাগো নিউজকে বলেন, টেলিভিশনে শ্রেণি পাঠদানে কিছু সমস্যা রয়েছে। করোনা পরিস্থিতির কারণে শিক্ষক, টেকনিশিয়ান ও কর্মকর্তারা আসতে চাচ্ছেন না বলেই এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে কাজ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ক্লাসগুলো আরও প্রাণবন্ত করে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। মনোযোগী হয়ে প্রতিদিন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের এসব ক্লাস দেখতে হবে বলে।

এমএইচএম/বিএ/এমকেএইচ