দেশজুড়ে

চেয়ারম্যানের বিচার দাবিতে ইউপি ভবন ঘেরাও

কুমিল্লার দেবিদ্বারে ইউপি ভবনে এক যুবককে ডেকে নিয়ে মারধরের ঘটনায় গুনাইঘর (দক্ষিণ) ইউপি ভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এলাকার বিক্ষুব্ধ লোকজন। ওই ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির সামনেই জনতা এ বিক্ষোভ করেন। যদিও এ সময় পরিষদে ছিলেন না ওই চেয়ারম্যান আবদুল হাকিম খাঁন।

মঙ্গলবার বিকাল সোয়া ৩টার দিকে বিক্ষোভের এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, করোনার কারণে বেকার হয়ে যাওয়া এলাকার দুস্থ লোকদের জন্য ত্রাণের তালিকা তৈরিসহ নিজ উদ্যোগে শতাধিক লোকের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন দেবিদ্বার উপজেলার মাশিকাড়া গ্রামের মো. আশেকে এলাহী নামের এক যুবক। এ নিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান আবদুল হাকিম খাঁনের সঙ্গে তার বিরোধের সৃষ্টি হয়। গত শনিবার ওই যুবককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পরিষদ ভবনে ৪ ঘণ্টা আটকে রেখে দফায় দফায় মারধরের অভিযোগ ওঠে ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। পরে নির্যাতনের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

এ ঘটনায় জেলা প্রশাসনের নির্দেশে গত রোববার রাতে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাকিব হাসান। মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার মো. আবু তাহেরের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটির অপর ২ সদস্য ওই ইউপি ভবনে গেলে স্থানীয় সহস্রাধিক বিক্ষুব্ধ লোক পরিষদ ঘেরাও করে চেয়ারম্যান ও তার সহযোগীদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে।

দেবিদ্বার থানার ওসি মো. জহিরুল আনোয়ার জানান, তদন্ত কমিটির অনুরোধে পুলিশ পাঠানো হলে পুলিশ সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

চেয়ারম্যান আবদুল হাকিম খান জানান, করোনা পরিস্থিতিতে সরকার যখন সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে সেখানে আমার প্রতিপক্ষরা পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন স্থান থেকে গাড়ি দিয়ে লোক এনে মিছিলসহ তদন্ত কমিটির সদস্যদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করে তদন্ত কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মো. আবু তাহের জানান, তদন্ত কমিটিতে চেয়ারম্যানকেও হাজির হতে নোটিশ দেয়া হয়, কিন্তু তিনি (চেয়ারম্যান) নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সেখানে উপস্থিত হননি। তবে ভিকটিম হাজির হওয়ায় প্রাথমিকভাবে তার বক্তব্য নেয়া হয়েছে। আরও সাক্ষীদের সাক্ষ্য ও চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নেয়ার স্বার্থে তদন্ত কাজ অসমাপ্ত রেখে বুধবার সকাল ১০টায় পুনরায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে উভয় পক্ষকে হাজির হতে বলা হয়েছে।

কামাল উদ্দিন/এফএ/এমএস