দেশজুড়ে

২ মাস সাগরে ভেসেও মালয়েশিয়ায় স্থান না পেয়ে ফিরে এলো ৪০০ রোহিঙ্গা

মালয়েশিয়ার উদ্দেশে সাগরে ভেসে ভেসে প্রায় ৫৫ দিন চেষ্টা চালিয়েও দেশটিতে স্থান না পেয়ে টেকনাফ উপকূলে ভিড়েছে চার শতাধিক রোহিঙ্গাবোঝাই একটি ট্রলার। বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে রোহিঙ্গাবোঝাই ট্রলারটি কক্সবাজারের টেকনাফের বাহারছড়ার জাহাজপুরা এলাকায় ভিড়েছে।

খবর পেয়ে কোস্টগার্ড এবং পুলিশ সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে সৈকতের বালুচরে জড়ো করে ঘিরে রেখেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য হুমায়ুন চৌধুরী।

তারা সবাই উখিয়ার কুতুপালং, বালুখালী, থাইংখালী, টেকনাফের নয়াপাড়া, শামলাপুর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা বলে দাবি করেছে উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গারা।

ভেসে আসা রোহিঙ্গারা জানান, ৫৫ দিন আগে বিভিন্ন ক্যাম্পের লোকজন ট্রলারে করে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে টেকনাফ নোয়াখালী ঘাট থেকে যাত্রা করেন। তিনদিন পর তারা মালয়েশিয়া সীমান্তে পৌঁছে যান। কিন্তু মালয়েশিয়া পুলিশ তাদের তাড়া করলে তারা ৫০ দিনের মতো সাগরে ভাসতে থাকেন। একপর্যায়ে ২৮ জন রোহিঙ্গা না খেয়ে মারা যান।

পরে তারা আবারও বাংলাদেশের দিকে চলে আসেন। এ অবস্থায় ট্রলারে থাকা নারী ও শিশুরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। খাবারও প্রায় শেষ হয়ে আসে। বাধ্য হয়ে ট্রলারের মাঝিকে সৈকতে ভেড়াতে বলেন তারা। এ সময় অনেক রোহিঙ্গা দ্রুত নেমে পালিয়ে যান বলেও দাবি করেন তারা।

তাদের দেয়া তথ্যমতে, ট্রলারটিতে বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে ৪৪২ জন যাত্রী উঠেছিল। তার মাঝে ২৫০ জনের অধিক নারী ও শিশু রয়েছে।

এদিকে ট্রলারবোঝাই রোহিঙ্গা ভেড়ার খবর পেয়ে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড ও টেকনাফ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে রোহিঙ্গাদের উদ্ধার করে জড়ো করে রাখেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের সৈকতের চরে ঘিরে রেখেছে পুলিশ সদস্যরা।

কোস্টগার্ডের টেকনাফ স্টেশন কর্মকর্তা লে. এম সোহেল রানা জানান, রোহিঙ্গাবোঝাই একটি বড় ট্রলার টেকনাফের জাহাজপুরা এলাকায় ভেড়ার খবরে সেখানে অভিযান চালিয়ে তিন শতাধিক রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়। তারা বেশ কিছুদিন আগে মালয়েশিয়ার আশায় সাগর পাড়ি দিয়ে পৌঁছালেও সেখানে ভিড়তে পারেনি।

বাহাড়ছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (পুলিশ পরিদর্শক) লিয়াকত আলী বলেন, উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের এখনো গণনা করা শেষ হয়নি। আগে তাদের মানবিক বিষয়গুলো বিবেচনা করা হচ্ছে। পরে বিস্তারিত জানা যাবে।

সায়ীদ আলমগীর/বিএ