ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ১৪ মে পর্যন্ত শরীয়তপুর সদর উপজেলার সন্তোশপুর ও জাজিরা উপজেলার গঙ্গাপ্রসাদ গ্রামে অন্তত ১০ পরিবারের বসতঘরে প্রায় ১২ বার আগুন লেগেছে।
সর্বশেষ বুধবার (১৩ মে) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে সন্তোশপুর গ্রামের মনির হোসেনের গবাদি পশুর ঘরে আগুন লাগে। এতে একটি গরু পুড়ে মারা যায়। আরও তিনটি গুরুর ৬০ ভাগ পুড়ে গেছে। বাড়িওয়ালার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয়রা জানায়, চার মাস ধরে পাশাপাশি দুই গ্রামে প্রায় ১০ পরিবারের বাড়ির রান্নাঘরে, খড়ের গাদায়, গোয়ালঘর, বাঁশবাগানে আগুন লেগেছে। কিভাবে আগুন লাগার ঘটনা ঘটছে তা কেউ বলতে পারছেন না। এসব ঘটনা লৌকিক নাকি ভৌতিক তা বুঝতে পারছেন না গ্রামবাসী।
ভুক্তভোগী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ফেরদৌসী আক্তার বলেন, রাত দেড়টার দিকে হঠাৎ দেখি আলো জ্বলছে। উঠে দেখি আমার গোয়ালঘরে আগুন। চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে একটি গরু পুড়ে মারা যায়। বাকি তিনটি গরু আধমরা অবস্থায় রয়েছে। গবাদি পশুর সঙ্গে কার কি শত্রুতা আমার বুঝে আসছে না। গোয়ালঘরে বিদ্যুতের লাইন নেই। আগুন লাগার কোনো কারণও দেখছি না।
তিনি বলেন, আমার স্বামী গতরাতেও গ্রামে পাহারায় ছিলেন। রাত ১১টার দিকে প্রতিবেশী নয়ন মল্লিকের ঘরে কে-বা-কারা আগুন দিয়েছে। ওই বাড়ির আগুন নিভিয়ে রাত ১টার দিকে স্বামী ঘরে আসে। কিছুক্ষণ পরই আমাদের ঘরের বিদ্যুতের লাইন কেটে দিয়েছে কারা। এরপর গোয়ালঘরে অগ্নিসংযোগ করেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাই।
ওই গ্রামের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম শিকদার বলেন, সম্প্রতি সন্তোশপুর গঙ্গাপ্রসাদ এলাকায় প্রতিদিনই বিভিন্ন বাড়িতে আগুন দেয়া হচ্ছে। আগুন থেকে বাঁচতে এলাকায় প্রতিদিন পাহারা দেয়া হয়। এরপরও আগুন লাগার ঘটনা ঘটছে।
পালং মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম উদ্দিন বলেন, কিভাবে আগুন লাগছে এসব ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
গত বছরের ফ্রেরুয়ারি মাসে জাজিরা উপজেলার বড়কান্দি ইউনিয়নের সুধন্য মন্ডলের কান্দি এলাকার আদর্শ গ্রামে চারদিন অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বসতঘর পুড়ে যায়। দিনে-দুপুরে হঠাৎ আগুন লেগে যায়। শরীয়তপুর ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা এসব ঘটনার রহস্য এখনও বের করতে পারেননি।
মো. ছগির হোসেন/এএম/এমকেএইচ