বটের ছায়ায় গল্প কতশত, লিখলে সেসব হয়ত এখন ইতিহাস হত। শীতল বটবৃক্ষ তলে বসে একটু প্রাণ জুড়িয়ে নেয়ার অবকাশ নেই এমন মানুষ হয়ত খুঁজে পাওয়াই দায়! বরগুনা সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের পায়রা নদের তীরের গোলবুনিয়া পর্যটন এলাকায় ছিল তেমনি দুটি বটগাছ। ভ্রমণ পিপাসুদের বটের ছায়ায় বসে পড়ন্ত বিকেলে পায়রা নদের সূর্য ডোবার দৃশ্য দেখার জন্য এক টুকরো বেঞ্চও ছিল। পাড়ভাঙা পায়রা প্রায় ছুঁয়ে দিচ্ছিল বটতলা। তবু যতটুকু অবশিষ্ট ছিল, হয়ত আরও এক যুগ টিকে থাকতে পারত বটগাছটি।
কিন্তু প্রবল ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তাণ্ডবে মাথা নুইয়ে দিতে হয়েছে সেই বটগাছ দুটিকে। বাতাসের ঝটকায় সমূলে উপড়ে নদীতে এখন সেই বটগাছ দুটি, বেঞ্চটিও মিলিয়েছে পায়রার কাঁদাজলে। প্রিয় বটগাছের এমন করুণ পরিণতি দেখতে প্রস্তুত ছিলেন না অনেকেই। তাইতো বড্ড আক্ষেপ- আহা সেই বটগাছটিও নেই!
ভ্রমণপিপাসু বরগুনার জুলকার নাইন শাহীন দেখতে গিয়েছিলেন পর্যটন স্পট গোলবুনিয়া। তিনি বটগাছ দুটির এমন পরিণতি দেখে খুবই দুঃখ পেয়েছেন। কয়েকটি ছবি তুলেছেন আহত বটের অসহায় আত্মসমর্পণের। ফেসবুকে আপলোড দিয়ে লিখেছেন, আহা সেই বটগাছটিও নেই!
শাহীন বলেন, গোলবুনিয়া প্রতিদিন গড়ে শতাধিত মানুষ ভ্রমণে আসে পায়রার ঢেউ আর নদীতে জেলেদের মাছ শিকার দেখতে। সন্ধ্যা নামলে সূর্য ডোবে পায়রার জলে। এখানে ঘুরতে এসে আমিও বটমূলের বেঞ্চে বসে এমন সব দৃশ্য দেখেছি অনেকবার। শুধু আমিই নই, এখানে যারা আসেন বটের ছায়ায় মুহূর্তের জন্য হলেও বসেননি এমন কাউকে পাওয়া দায়। আমি খুবই কষ্ট পেয়েছি বটগাছ দুটি উপড়ে পড়েছে দেখে।
কোস্টাল এনভায়রনমেন্ট প্রকেটকশন নেটওয়ার্কের (সিইপিএন) সভাপতি প্রকৃতি প্রেমিক লেখক রুদ্র রুহান বলেন, যেহেতু ভাঙন কবলিত এলাকা তাই সরকারি উদ্যোগে বটগাছ দুটি সংরক্ষণে আগে থেকেই ব্যবস্থা নেয়া উচিৎ ছিল। বটগাছ দুটি ঝড়ে উপড়ে যাওয়ার খবর প্রকৃতি প্রেমিক ভ্রমণপিপাসুদের কাছে কষ্টের।
সাইফুল ইসলাম মিরাজ/আরএআর/পিআর