দেশজুড়ে

ভারতে বাংলাদেশি যুবককে পিটিয়ে হত্যা, বিজিবি-বিএসএফের নিষ্ফল বৈঠক

করোনা আক্রান্ত সন্দেহে হবিগঞ্জের মাধবপুরের এক যুবককে ভারতে পিটিয়ে হত্যা করেছে স্থানীয় লোকজন। এ ঘটনায় উভয় দেশের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও বিএসএফ মরদেহের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট না দেয়ায় মরদেহ গ্রহণ করেনি বিজিবি। বুধবার (২৭ মে) বিকেলে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

নিহত ওই যুবকের নাম লোকমান মিয়া। তিনি মাধবপুর উপজেলার মালঞ্চপুর গ্রামের আব্দুল হাসিমের ছেলে।

বিজিবি জানায়, গত ২৪ মে লোকমান মিয়া মাধবপুরের সীমান্তবর্তী ভারতের মোহনপুর সীমান্ত দিয়ে গোপালপুরে ফুফুর বাড়িতে বেড়াতে যান। ভারতের স্থানীয় নাগরিকরা লোকমানকে করোনা রোগী ও চোর সন্দেহে পিটিয়ে সীমান্তে ফেলে দেয়। ভারতের সিদাই থানা পুলিশ লোকমানকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। এ ব্যাপারে সিদাই থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়।

এ ঘটনা জানতে পেরে বিজিবি মরদেহ ফেরত চেয়ে বিএসএফকে চিঠি দেয়। চিঠিতে সাড়া দেয়ায় বুধবার বিকেলে মোহনপুর সীমান্তে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন বিজিবির কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার দেলোয়ার হোসেন ও ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেন কোম্পানি কমান্ডার ইন্সপেক্টর শশী কান্ত।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ৫৫ বিজিবি হবিগঞ্জের কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল সামিউন্নবী চৌধুরী সামি জানান, বৈঠকে বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফের কাছে নিহত লোকমানের পোস্টমর্টেম রিপোর্ট, নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট ও এ ঘটনায় থানায় মামলার এফআইআর চাওয়া হয়। বিএসএফ নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট ও মামলার এফআইআরের কপি দিলেও পোস্টমর্টেম রিপোর্ট দেয়নি। তাই বিজিবি লোকমানের মরদেহ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়।

এ ব্যাপারে ৫৫ বিজিবির সহকারী পরিচালক নাসির উদ্দিন চৌধুরী জানান, বিএসএফ মামলার যে এফআইআর দিয়েছে তাতে লোকমানের মৃত্যুর কারণ উল্লেখ নেই। এফআইআর নিয়ম অনুযায়ী লেখা হয়নি। তাছাড়া পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পেলে লোকমানের মৃত্যুর কারণ জানা যেত। লোকমানের নমুনা পরীক্ষায় করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট এসেছে। লোকমানের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জেনে তার মরদেহ আনতে সব রকম চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে বিজিবি।

সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন/আরএআর/জেআইএম