দেশজুড়ে

৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ট্রাস্টি বোর্ডের সেক্রেটারির নামে মামলা

পর্যটন নগরীর একমাত্র প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (সিবিআইইউ) প্রায় ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ট্রাস্টি বোর্ডের সেক্রেটারি লায়ন মুজিবুর রহমানসহ (লরেল মুজিব) চারজনের বিরুদ্ধে হয়েছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার মনোনীত ট্রেজারার প্রফেসর আবদুল হামিদ বাদী হয়ে মঙ্গলবার (২ জুন) কক্সবাজার থানায় মামলাটি রুজু করেন (মামলা নং ১/৪৩২, তা: ২ জুন)। থানার ওসি (তদন্ত) খায়রুজ্জামান মামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

মামলার আসামিরা হলেন, পেকুয়ার বাইন্যাঘোনা এলাকার মৃত আমির হোসাইনের ছেলে ও কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের সেক্রেটারি মুজিবুর রহমান, তার ভাই ও কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাবেক অর্থ পরিচালক আবদুস সবুর, আরেক ভাই আবদুল মাবুদ, সিকিউরিটি ইনচার্জ ও মগনামার মুহুরীঘোনা এলাকার রাহমতউল্লাহর ছেলে মনির উদ্দিন আরিফ।

মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি কর্তৃক ভুয়া কাগজপত্র বানিয়ে প্রতারণা ও বলপূর্বকভাবে চেক আদায়ের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে, একই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্ট্রি বোর্ডের চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন আহমেদ সিআইপি, ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আবুল কাশেম, হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মো. আবদুল খালেক, সহকারী হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা আতিকুজ্জামাল ছোটন ও এডমিশন অফিসার মো. নূর উদ্দিন সেলিমকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ও মামলার বাদী প্রফেসর আবদুল হামিদ এজাহারে দাবি করেন, কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। যার আবেদনকারী সালাউদ্দিন আহমেদ (জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী)। প্রধানমন্ত্রীর ২০১৩ সালে উখিয়ার এক জনসভায় দেয়া ঘোষণার আলোকে সালাহউদ্দিন আহমেদের আবেদনটি শিক্ষামন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদন দেয়া হয়। কিন্তু ১নং আসামি মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের পক্ষে যোগাযোগকারী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগে প্রতারণার মাধ্যমে উদ্যোক্তা হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে নিজের নামে একটি পত্র হাসিল করেন। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে শুরু করে বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন আহমেদ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অজান্তে তিনি অন্যান্য আসামিদের সঙ্গে বিভিন্ন কলাকৌশলে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিলেন। আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন আহমেদের স্বাক্ষর জাল করে ট্রাস্টি বোর্ডের অনেক রেজুলেশন তৈরি করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে জমি কেনার ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে বিভিন্ন জনের নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংক একাউন্ট থেকে টাকা উত্তোলন করে প্রায় ২ কোটি ৯৮ লাখ টাকার বেশি অর্থ আত্মসাৎ করেন।

মামলায় আরও দাবি করা হয়, আসামিরা বিনা অনুমতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন।

এসব বিষয়ে কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ট্রাস্টিবোর্ডের অগোচরে সেক্রেটারি মুজিবুর রহমান যেসব অনিয়ম ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন তা দেখে আমরা বিস্মিত ও লজ্জিত। এখন সরকারের অনুমোদন নিয়ে ট্রাস্টি বোর্ডের সেক্রেটারি পদ থেকে তাকে অপসারণের উদ্যোগ নেয়া হবে।

মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ট্রাস্টি বোর্ডের সেক্রেটারি লায়ন মুজিবুর রহমান সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো আর্থিক বিষয়ে আমি সিগনেটরি নই। তাই আমার স্বাক্ষরে কাউকে চেক দেয়া হয়নি বা অর্থ দেয়া হয়নি। আর এ বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোক্তা আমি এবং সমস্ত বিনিয়োগ আমার। সালাহউদ্দিন আহমদকে আমার এলাকার মুরুব্বী হিসাবেই ট্রাস্টি বোর্ডে রেখেছি। কিন্তু তিনি অযোগ্য লোকদের ট্রাস্টি বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করতে চান। এনিয়ে সম্প্রতি আমার সঙ্গে বিরোধ দেখা দেয়ায় তিনি ট্রেজারারকে চাপ দিয়ে আমার বিরুদ্ধে মামলা করিয়েছেন।

মুজিব আরও দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন আনার জন্য সালাহউদ্দিন আহমদকে মিডিয়া হিসাবে অনেক অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়টি এখন সুনামের সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় লোভের বশবর্তী হয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমদ।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমি কারো কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকানা বিক্রি করে দিইনি। পরিচালনা ও যোগাযোগের সুবিধার জন্য শর্তসাপেক্ষে লায়ন মুজিবুর রহমানকে ট্রাস্টি বোর্ডের সেক্রেটারি করেছিলাম।

সায়ীদ আলমগীর/এফএ/এমএস