দেশজুড়ে

শত শত মানুষ হাতিটি দেখতে গেল

কক্সবাজারের টেকনাফের পাহাড়ি এলাকায় বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইনের সঙ্গে শুঁড় লেগে একটি বন্যহাতির মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার ভোরে উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের পশ্চিম পানখালীর খণ্ডা কাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের টেকনাফ রেঞ্জ কর্মকর্তা সৈয়দ আশিক আহমদ।

ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি অবলোকন করা বন্যপ্রাণী গবেষক শীতল কুমার নাথ বলেন, অপরিকল্পিত বিদ্যুৎ লাইনের কারণে খাদ্য অন্বেষণে এসে ৪০-৫০ বছর বয়সী একটি হাতি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যায়। হাতিটির শরীরে অসুস্থতা কিংবা অন্য কোনো ধরনের আঘাতের চিহ্ন ছিল না।

স্থানীয় লোকজনের বরাত দিয়ে তিনি আরও জানান, একটি বন্যহাতির ডাকা বিকট শব্দে এলাকাবাসীর ঘুম ভাঙে। ভোরের আলো ফুটলে স্থানীয়রা শব্দের উৎসস্থলে গিয়ে দেখেন বৈদ্যুতিক তারের সঙ্গে হাতির শুঁড় আটকে আছে। তাদের ধারণা খাবারের সন্ধানে পাহাড় থেকে নেমে আসা বন্যহাতি বৈদ্যুতিক তারের সংযোগ লাইনের স্পর্শে গিয়ে মারা গেছে। খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর ভোর থেকে শত শত মানুষ হাতিটি দেখার জন্য ভিড় জমায়।

টেকনাফ রেঞ্জ কর্মকর্তা সৈয়দ আশিক আহমদ জাগো নিউজ বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েই হাতিটি মারা গেছে। হাতিটির মাথার ওপরের দিকে একটি ক্ষতচিহ্ন ছাড়া শরীরের আর কোথাও কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই।

রেঞ্জ কর্মকর্তার মতে, এটা এক ধরনের হত্যাকাণ্ড। কারণ পাহাড়ি এলাকায় হাতি চলাচলের রাস্তায় এত নিচু দিয়ে বৈদ্যুতিক লাইনের তার টানা হয়েছে যে হাতি কেন যে কেউ এতে মারা পড়তে পারে।

এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করে বন কর্মকর্তা আশিক আহমদ জাগো নিউজকে বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরামর্শে ময়নাতদন্ত সম্পন্নের পর হাতির মরদেহটি পুঁতে ফেলা হবে।

সায়ীদ আলমগীর/এমএএস/পিআর