দেশজুড়ে

স্কুলশিক্ষকের মরদেহসহ স্বজনদের হাসপাতালে আটকে রাখার অভিযোগ

কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসক ও নার্সদের অবহেলায় এক অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষকের মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া মরদেহসহ তার ছেলেমেয়েদের দুই ঘণ্টা আটকে রাখা হয় বলে স্বজনদের অভিযোগ। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন।

জানা গেছে, হার্টের সমস্যা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে বুধবার দুপুরে কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে আসেন জেলার হোসেনপুর উপজেলার পুমদি নান্দানিয়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক মো. আব্দুর রশিদ (৮০)। করোনা উপসর্গ থাকায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে রাজি হননি জরুরি বিভাগের চিকিৎসক। পরে ভর্তি করলেও হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে তাকে ঢুকতে দেয়া হয়নি। ফেলে রাখা হয় বারান্দায়।

স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসকদের অবহেলায় বিকেল ৪টার দিকে তার মৃত্যু হয়। তবে এতেও রেহাই মেলেনি। চিকিৎসকের ওপর হামলার অভিযোগে জরুরি বিভাগের বারান্দায় মরদেহসহ তার ছেলেমেয়েদের আটকে রাখা হয়।

মৃতের ছেলে আশুগঞ্জ বঙ্গবন্ধু কা‌রিগ‌রি কলেজের শিক্ষক ম‌হিউ‌দ্দিন আহমেদ বলেন, তার বাবার করোনা নেগে‌টিভ। তি‌নি অনেক দিন ধরে হা‌র্ট ও শ্বাসকষ্টের সমস্যায় ভুগছেন। তাকে হাসপাতালে নিয়ে এলে কোনো ডাক্তার বা নার্স তাকে চি‌কিৎসা দিতে রা‌জি হয়‌নি। আমরা বাইরে থেকে অ‌ক্সিজেন এনে‌ছি। আকু‌তি-মিন‌তি করার পরও তাদের মন গলে‌নি।

তি‌নি বলেন, বারবার মিন‌তি করার পরও ডাক্তার, নার্স না পে‌য়ে আমার বোনেরা ডাক্তারদের সামনে ক্ষোভ জানায়। এতে তারা ক্ষিপ্ত হন। অবহেলায় বাবার মৃত্যুর পরও আমার মা, তিন বোন ও আমাকেসহ বাবার লাশ আটকে রাখা তারা। মামলার ভয় দেখায়। দুই ঘণ্টা পর আমাদের ছাড়া হয়।

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, মারা যাওয়া ব্যক্তির মেয়েরা চিকিৎসকদের ওপর হামলা করেন। তাই তাদের আটকে রেখে পুলিশে খবর দেয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে দুই ঘণ্টা পর জরুরি বিভাগের বারান্দা থেকে বের করা হয় মরদেহ।

জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রা‌কিব দা‌বি করেন, মারা যাওয়া ব্যক্তির তিন মেয়ে আমাদের ওপর হামলা করে। পি‌পিই ছিঁড়ে ফেলে। তাদের আটক করে পু‌লিশে খবর দেয়া হয়।

এ সময় খোঁজ নিতে গেলে সাংবা‌দিকদের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন ওই চিকিৎসক।

পরে কিশোরগঞ্জ মডেল থানার প‌রিদর্শক (তদন্ত) মো. মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পু‌লিশ সেখানে গেলে বিকেল ৫টার দিকে মৃত ব্য‌ক্তিকে নিয়ে হাসপাতাল ছাড়েন স্বজনরা।

এদিকে চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যু এবং লাশসহ স্বজনদের আটকে রাখার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কিশোরগ‌ঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. মু‌জিবুর রহমান।

মো. আব্দুর রশিদ হোসেনপুর উপজেলার ধনকুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ছিলেন।

নূর মোহাম্মদ/বিএ