দেশজুড়ে

সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত প্রশাসন

ভারতের পাহাড়ি ঢলে ও টানা বৃষ্টিপাতে সুনামগঞ্জে বেশ কয়েকটি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে। শনিবার (২৭ জুন) বিকেল পর্যন্ত সুনামগঞ্জে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ৬৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় ফলে শহরের বেশ কয়েকটি এলাকাসহ বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করে।

তবে সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তা মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে প্রশাসন। ইতোমধ্যে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা পর্যায়ে ৪১০ মেট্রিক টন জিআর চাল ও ২৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়াসহ ১৬টি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, গেল কয়েকদিন ধরে ভারতের চেরাপুঞ্জিতে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাহাড়ি ঢলের পানি সুনামগঞ্জে আসতে শুরু করে। এছাড়া কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাতের কারণে সুনামগঞ্জে সুরমা ও জাদুকাটা নদীসহ বেশ কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত শুরু করায় শহরের কাজির পয়েন্ট, আরপিন নগর, নবীনগর, ধোপাখালিসহ তাহিরপুর উপজেলা ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বেশ কয়েকটি নিম্নাঞ্চল এলাকায় পানি প্রবেশ করে। এছাড়া তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সাথে সড়ক যোগাযোগ এখন প্রায় বিচ্ছিন্ন। ভারতের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে সুনামগঞ্জের পরিস্থিতি খারাপ হয়ে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

এদিকে শনিবার জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সবার সম্মতিতে সুনামগঞ্জের বন্যা মোকাবিলায় ১৬টি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

এসব সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে- করোনা পরিস্থিতির বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে প্রতিটি আশ্রয় কেন্দ্রে মাস্ক, সাবান ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার সরবরাহ করবে প্রশাসন, জেলা ও উপজেলার ১২টি কন্ট্রোল রুম চালু করা এবং কন্ট্রোল রুমের যোগাযোগের নম্বর প্রচার করা। উপজেলায় ও ইউনিয়ন পর্যায়ে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট প্রস্তুত করা ও প্রয়োজন অনুযায়ী সরবরাহ করা। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর তালিকা প্রস্তুত, যোগাযোগের নম্বর এবং আশ্রয়কেন্দ্র ভিত্তিক কমিটি করে দেয়া। ত্রাণ ও উদ্ধার কাজে সহায়তা করার জন্য স্থানীয় পর্যায়ে নৌযানের ও মাঝির ব্যবস্থা করা এবং তাদের যোগাযোগের নম্বর প্রচার করা। ত্রাণ ও উদ্ধার কাজে সহায়তা করার জন্য স্থানীয় পর্যায়ে স্পিড বোটের ব্যবস্থা করা। আশ্রয়কেন্দ্রে কারো করোনার উপসর্গ থাকলে তাকে আলাদা স্থানে রাখার ব্যবস্থা করা। স্ব স্ব উপজেলা থেকে ত্রাণ চাহিদা জেলা প্রশাসন বরাবর প্রেরণ করা। প্রয়োজন অনুযায়ী শুকনো খাবার, শিশু খাদ্য ও পশু খাদ্য সরবরাহ করা। মোমবাতি, দিয়াশলাই, চার্জার লাইট সরবরাহ করা। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যাবস্থা নিশ্চিত করার জন্য মেডিকেল টিম গঠন করা। বন্যার সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পুলিশকে প্রস্তুত রাখা ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

এছাড়া বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা পর্যায়ে ৪১০ মেট্রিক টন চাল এবং ২৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা নগদ বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে এবং উপজেলাগুলোতে ৪ হাজার ৭৫২টি পরিবারের মাঝে শিশু খাদ্য বিতরণের জন্য বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সবিবুর রহমান বলেন, ভারতের মেঘালয়-চেরাপুঞ্জিতে গত ৭২ ঘণ্টায় ৯০২ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে, যা এই মৌসুমে সর্বোচ্চ। এখন পর্যন্ত সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ৬৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাবে এবং বন্যা হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল আহাদ বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত রয়েছি।সুনামগঞ্জের সকল উপজেলায় বন্যা ক্ষতিগ্রস্তদের খাবার সরবরাহ জন্য ৪১০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ টাকা পাঠানো হয়েছে। এছাড়া করোনাভাইরাসের কথা চিন্তা করে সুরক্ষা সামগ্রী ও করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া আমাদের কন্ট্রোল রুমের মোবাইল নম্বরগুলো সার্বক্ষণিক সচল রয়েছে।

মোসাইদ রাহাত/এমএসএইচ