দেশজুড়ে

করোনাকালে হবিগঞ্জে ৪ মাসে ২৯ খুন

করোনার ছোবলে পুরো বিশ্ব যখন হিমশিম খাচ্ছে, ঠিক তখনই ছোটখাট বিষয়েও হত্যাকাণ্ডে মেতে উঠেছে হবিগঞ্জের মানুষ। গত ৪ মাসে জেলায় ২৯টি খুনের ঘটনা ঘটেছে।

যদিও অধিকাংশ খুনের ঘটনাতেই আসামি গ্রেফতার হয়েছে তবুও পারিবারিক ছোটখাট বিষয়াদি নিয়ে এসব খুনের ঘটনা ভাবিয়ে তুলেছে পুলিশ প্রশাসনকে। করোনা মোকাবেলার পাশাপাশি এসব অপরাধ দমনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিট পুলিশিং কার্যক্রম আরও জোরালো করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা জানান, হবিগঞ্জ জেলা একটি দাঙ্গাপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত ছিল। অতীতে এখানে ২/৫ টাকা নিয়েও অনেক বড় বড় দাঙ্গা হয়েছে। এসব দাঙ্গায় অসংখ্য লোকের প্রাণ গেছে।

তিনি বলেন, এসব বিষয় মাথায় রেখে আমি হবিগঞ্জে যোগদানের পর থেকেই গ্রাম্য দাঙ্গা প্রতিহত করতে কাজ শুরু করি। এটিই আমার প্রথম লক্ষ্য ছিল। আমি প্রতিটি গ্রামে গিয়েছি, লিফলেট বিতরণ করেছি, পোস্টার ছাপিয়েছে, উঠান বৈঠক করেছি, স্কুলে স্কুলে বিভিন্ন অনুষ্ঠান করে গ্রাম্য দাঙ্গার কুফল সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করেছি। এর সুফলও পেয়েছি। যার ফলে জেলায় গ্রাম্য দাঙ্গা কমে এসছে। বিভিন্ন গ্রামের মানুষ নিজেদের ঘরে রাখা দেশীয় অস্ত্র পুলিশের কাছে জমা দিয়েছেন।

তিনি বলেন, আর কিছুদিন সময় পেলে হয়তো জেলার দাঙ্গা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব হতো। কিন্তু করোনাকালে জেলায় যে কটি খুনের ঘটনা ঘটেছে এর একটিও দাঙ্গায় হয়নি। এর সবগুলোই ছোটখাট বিষয় নিয়ে ভাইয়ে ভাইয়ে বিরোধের জেরে, প্রতিবেশীর সঙ্গে বিরোধ, রাস্তা নিয়ে বিরোধ, ঘরের চালার পানি পড়া নিয়ে বিরোধ থেকে খুন হয়েছে। যা আসলে খুন হওয়ার মতো কোনো বিরোধ নয়।

তিনি বলেন, আসলে করোনার কারণে মানুষ নিস্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। কাজ নেই। বেকার। তাই তারা বাড়িতে থেকে ছোটখাট বিষয় নিয়েই মাথা গরম হয়ে খুনের মতো ঘটনা ঘটিয়েছে। আবার যখন কাজ শুরু হয়েছে তখন খুনের ঘটনাও কমেছে।

একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে করোনার শুরুতে যখন মার্চ মাসে ১০টি খুন হয়েছে তখন মানুষ একেবারেই বেকার ছিল। আবার এপ্রিল মাসে ধান কাটার মৌসুম। তখন সবাই কাজে ব্যস্ত ছিল। এ মাসে এ সংখ্যা কমে হয়েছে ৬টি। আশা করা যাচ্ছে এখন মানুষের কাজ শুরু হয়েছে। সবকিছুই স্বাভাবিক হচ্ছে। সবাই কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ছে। তাই খুনখারাবিও কমে যাবে।

জেলা পুলিশের দেয়া তথ্যে জানা গেছে, মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত চার মাসে ২৯টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে মার্চ মাসে ১০টি, এপ্রিল মাসে ৬টি, মে মাসে ১০টি এবং জুন মাসে ৪টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। তবে জুন মাসের ৪টির মধ্যে ২টি হত্যাকাণ্ড কিনা তা এখনও নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।

এ চার মাসে জেলায় উল্লেখযোগ্য কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। তবে ছোটখাট বেশ কয়েকটি সংঘর্ষের হয়েছে, যার বেশিরভাগই বানিয়াচং, আজমিরীগঞ্জ ও নবীগঞ্জ উপজেলায়। এসব সংঘর্ষে কয়েকশ লোক আহত হলেও কেউ নিহত হয়নি। আর জেলার ৯ উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে লাখাই ও মাধবপুর উপজেলায়।

সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন/এফএ/পিআর