জাতীয়

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেষ দিন পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করেছেন

 

সদ্য প্রয়াত ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আব্দুল্লাহ শুধু একজন ভালো মানুষই ছিলেন না, তিনি ছিলেন সত্যিকারার্থে একজন কাজের মানুষ। তিনি যেখানেই হাত দিতেন বিফল হতেন না। হজ ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে মাত্র এক বছরের মধ্যেই তিনি অসাধারণ সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। তিনি ব্যবহারে কোমল কিন্তু কাজ ও সততার প্রশ্নে কঠোর ছিলেন। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে গেছেন। তার শূন্যতা পুরণ হবার নয়।

রোববার (৬ জুলাই) হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) আয়োজিত স্মরণসভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

ভার্চুয়াল এই স্মরণসভাটি বিকেল ৩টায় শুরু হয়ে চলে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত। হাব সভাপতি এম শাহদাত হোসেন তসলিমের সভাপতিত্বে ও পরিচালনায় অনুষ্ঠানে ধর্ম মন্ত্রণালয়, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা, আলেম ও সাংবাদিকসহ বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

আলোচনায় আংশ নেন সৌদি আরবের নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ, সৌদি আরবে দক্ষিণ এশীয় হাজী সংস্থা মোয়াস্সাসা অফিসের ডিজি ওমর সিরাজ আকবর, ধর্মসচিব মো. নুরুল ইসলাম, সৌদি আরবে নিযুক্ত কাউন্সিলর হজ মামকসুর রহমান, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সচিব কাজী নুরুল ইসলাম, বেগম শেখ আব্দুল্লাহ, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নূরী, মুহাম্মদ আব্দুল হামিদ জমাদ্দার, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আনিস মাহমুদ, বেফাক ও হায়আতুল উলায়ার শীর্ষ নেতা মাহলানা মাহফুজুল হক, গওহরডাঙ্গা মাদরাসার মুহতামিম মুফতি মাওলানা রূহুল আমিন, ফরিদাবাদ মাদরাসার নায়েবে মুহতামিম মাওলানা নুরুল আমিন, সিনিয়র সংবাদিক মঞ্জুরুল ইসলাম, রিলিজিয়াস রিপোর্টার্স ফোরামের (আরআরএফ) সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ ভূঁইয়া, লন্ডন প্রবাসী সাংবাদিক সামসুল আলম লিটন, হজ অফিসের পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম, বায়তুল মোকাররমের সিনিয়র পেশ ইমাম মুফতি মিজানুর রহমান, হাবের সাবেক সভাপতি মো. আব্দুশ শকুর, সাবেক সহ-সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ার, হাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা ইয়াকুব শরাফতী, মহাসচিব সচিব ফরিদ আহমেদ সরদার, যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা ফজলুর রহমান, আটাবের মহাসচিব মাজহারুল হক ভূঁইয়া প্রমুখ।

সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ বলেন, ভালো মানুষ অনেক আছেন। শেখ আব্দুল্লাহ শুধু একজন ভালো মানুষ ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন কাজের মানুষ। তার মতো মানুষ আর আসবে না।

ধর্ম সচিব নুরুল ইসলাম বলেন, তিনি মন্ত্রণালয়ে এসেই ঘোষণা দিয়েছিলেন, নিজে দুর্নীতি করব না, কাউকে দুর্নীতি করতে দেব না। সে অনুযায়ীই কাজ করেছেন তিনি।

অতিরিক্ত সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নূরী বলেন, তিনি হজ ব্যবস্থার ব্যাপারে বলেছিলেন, কেউ হাজীদের চোখে পানি আনলে আমি তার চোখে পানি এনে ছাড়ব। তিনি হজ ব্যবস্থাপনায় শৃংখলা আনার সর্বাত্মক উদ্যোগ নিয়েছিলেন।

বেগম শেখ আব্দুল্লাহ বলেন, শেখ আব্দুল্লাহ মরহুম শামসুল হক ফরিদপুরীর ছাত্র ছিলেন। তিনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে গেছেন। তিনি আগে ধর্মকে ধারণ করতেন কিন্তু তা বাস্তবায়নের সুযোগ পাননি। আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হওয়ার পর থেকে ধর্মীয় বিশ্বাসকে বাস্তবায়ন শুরু করেন এবং সর্বশেষ ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হন। এভাবেই তিনি সফল।

অন্যান্য বক্তারা বলেন, ধর্ম মন্ত্রণালয়ে প্রথমবারের মতো একজন আলেম ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি, যিনি একাধারে কোরআনে হাফেজও ছিল। তিনি অনর্গল ইংরেজিতেও কথা বলতে পারতেন। তিনি দায়িত্ব পাওয়ার প্রথম বছরেই হজ ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেন। হজ ব্যবস্থাপনায় শৃংখলা প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হন।

বক্তারা আরও বলেন, দায়িত্ব নেয়ার পর তাবলীগ জামাতের মধ্যে বিভক্তি নিরসনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি সরকারের সঙ্গে আলেম-ওলামাদের দূরত্ব কমাতে এবং কওমি শিক্ষায় দাওরায়ে হাদিসের সনদ প্রদানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে গেছেন। তিনি ব্যবহারে যেমন অতি কোমল ছিলেন তেমনি কাজের ক্ষেত্রে, সততার প্রশ্নেও তিনি কঠোর ছিলেন।

হজ ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে বক্তারা মরহুম এই প্রতিমন্ত্রীর পরিকল্পনা ও চিন্তা বাস্তবায়নে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানের শেষে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। তার আগে হাবের উদ্যোগে কোরআন খতম করা হয়।

এমইউ/এমএফ