আন্তর্জাতিক

বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিলে যুক্তরাষ্ট্রে সমালোচনার ঝড়

যুক্তরাষ্ট্রে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনলাইনে ক্লাস নেয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, সেগুলোর সব বিদেশি শিক্ষার্থীকেই নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস বিভাগ (আইসিই)। এতে বিপাকে পড়েছেন বিভিন্ন দেশ থেকে যাওয়া লাখ লাখ শিক্ষার্থী। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রেই চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। মার্কিন প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন দেশটির রাজনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদরা।

কী সিদ্ধান্ত নিল যুক্তরাষ্ট্রচলতি বসন্ত ও গ্রীষ্মকালীন সেমিস্টারে যেসব ক্লাস অনলাইনে হবে, সেগুলোর বিদেশি শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি সাময়িকভাবে বাতিল করেছে আইসিই পরিচালিত ‘স্টুডেন্ট অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ ভিজিটার প্রোগ্রাম’।

এতে এফ-১ এবং এম-১ ভিসাধারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হবেন তাদের অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করতে হবে অথবা অন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এই নিয়মের বাইরে গেলে শাস্তিও ভোগ করতে হতে পারে। তবে, এ ভিসা নিষেধাজ্ঞা নতুন শিক্ষাবর্ষে থাকবে না। আইসিই’র এ ঘোষণার দিনই যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি ঘোষণা দিয়েছে, তাদের সব কোর্সের পাঠদানই অনলাইনে চলবে এবং ক্যাম্পাসে সীমিত সংখ্যক শিক্ষার্থীকে থাকার অনুমতি দেয়া হবে। করোনিকল অব হায়ার এডুকেশনের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের ৯ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ই তাদের সব ক্লাস অনলাইনে নেয়ার পরিকল্পনা করছে। যদিও, আগামীতে এ সিদ্ধান্ত পরিবর্তিত হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে সমালোচনার ঝড়হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট ল্যারি ব্যাকো মার্কিন সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আইসিইর জারি করা নির্দেশনায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এটি বিদেশি শিক্ষার্থীদের জটিল সমস্যায় ফেলে দিয়েছে, বিশেষ করে অনলাইন প্রোগ্রামগুলোর শিক্ষার্থীদের; দেশত্যাগ বা স্কুল পরিবর্তন ছাড়া তাদের হাতে খুব একটা বিকল্প নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক মহামারিতে স্বাস্থ্য ও সুরক্ষার চ্যালেঞ্জগুলোতে ভারসাম্য রেখে শিক্ষার্থীদের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনায় হার্ভার্ডসহ অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেয়া সুচিন্তিত উদ্যোগের ক্ষতি করছে।’

বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিলের বিষয়ে ডেমোক্রেটিক সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী মহামারি চলাকালীন বিদেশি শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে লাথি মেরে তাড়িয়ে দেয়া হচ্ছে, কারণ তাদের কলেজগুলো সামাজিক দূরত্বের জন্য অনলাইনে ক্লাস চালাচ্ছিল। এটি নির্বোধ, নিষ্ঠুর এবং জেনোফোবিক (বিদেশিদের অপছন্দ করার মানসিক সমস্যা)।’

প্রায় একই কথা বলেছেন জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক দূত সামান্থা পাওয়ার। তার কথায়, সিদ্ধান্তটি কোনও বুদ্ধিমানের কাজ নয় এবং বেশিরভাগ শিক্ষার্থীদের জন্যই তা অকার্যকর।

নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করা সাংবাদিক এলিজাবেথ স্পাইয়ার্স বলেছেন, তার অনেক শিক্ষার্থী এই ভিসার ওপর নির্ভরশীল এবং তারা নিজ দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সময়ের পার্থক্যসহ অন্যান্য সমস্যার কারণে অনলাইন ক্লাসে ঠিকমতো যোগ দিতে পারবে না।

সূত্র: বিবিসিকেএএ/