সুনামগঞ্জে বন্যাদুর্গত অসহায় মানুষকে পাঁচদিন ধরে রান্না করে খাবার দিচ্ছেন স্থানীয় এক আওয়াম লীগ নেতা। শনিবার (১১ জুলাই) থেকে শহরের ওয়েজখালী বিসিক শিল্পনগরীতে বন্যায় অসহায় হয়ে পড়া মানুষকে তিন বেলা খাবার ও রাতে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে বন্যাদুর্গত মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়িয়ে সব ধরনের সহায়তা করে যাচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক পিপি খায়রুল কবির রুমেন।
গত শুক্রবার থেকে ভারতের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাতের কারণে সুনামগঞ্জে বন্যা দেখা দেয়। প্লাবিত হয় শহরের ৮০ ভাগ এলাকা। অনেকের ঘরে কোমর পানি। ঘরবাড়ি ডুবে যাওয়ায় অনেকের রান্নাবান্না বন্ধ হয়ে আছে। না খেয়ে আছেন অনেকেই। এ নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়ে পানিবন্দি মানুষ। এ অবস্থায় শহরের মানুষের দুর্ভোগে পাশে দাঁড়ান জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক পিপি খায়রুল কবির রুমেন। শনিবার সকাল থেকে প্রতিদিন তিন বেলা রান্না করা খাবারের ব্যবস্থা করেন তিনি। সেই সঙ্গে ২০০ মানুষকে থাকার ব্যবস্থা করেন রুমেন। নিজ খরচে প্রতিদিন রান্না করে বন্যাদুর্গত অসহায় ২০০ মানুষকে খাাওয়াচ্ছেন তিনি। সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ওয়েজখালী এলাকার বিসিক শিল্পনগরীর লন্ডনপ্রবাসী আরজ আলীর কারখানায় বন্যাদুর্গত ২০০ অসহায় মানুষের থাকার ব্যবস্থা করেছেন রুমেন।
শহরের ওয়েজখালী এলাকায় পানিবন্দি রুমেনা আক্তার বলেন, আমার ঘরে পানি ঢুকেছে। চারদিন ধরে রান্নাবান্না বন্ধ। ছেলে-মেয়ে নিয়ে বিপদে ছিলাম। চারদিন ধরে রুমেন ভাই আমাদের খাওয়াচ্ছেন।
পানিবন্দি আরেক শ্রমিক খেলু মিয়া বলেন, ঘরে-বাইরে সর্বত্র পানি। পানিবন্দি অবস্থায় রান্নাবান্না বন্ধ আমাদের। বিপদে রুমেন ভাই আমাদের খাবার দিচ্ছেন, থাকার জায়গা দিয়েছেন। সমাজে তার মতো মানুষ আরও প্রয়োজন।
জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক পিপি খায়রুল কবির রুমেন বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর পর থেকে অসহায় মানুষকে অর্থ, খাবার সহায়তা দিচ্ছি। আমি রাজনীতি করছি মানুষের জন্য। এজন্য বিপদে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে প্রতিদিন তিন বেলা খাবার দিচ্ছি, থাকার ব্যবস্থা করেছি। এই সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
মোসাইদ রাহাত/এএম/এমএস