ফেনীর ফুলগাজী ও পরশুরামে ভারতীয় উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের চাপে মুহুরী বাঁধ ভেঙে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হতে শুরু করছে। পানি নেমে যাওয়ায় ক্রমেই ভেসে উঠছে বন্যার ক্ষত চিহ্ন। মাঠ পর্যায়ে ক্ষয়-ক্ষতির অঙ্ক নির্ধারণ করতে কাজ করছে প্রশাসনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ।
এর আগে রোববার ও সোমবার পাহাড়ি ঢলের চাপে মুহুরী নদী রক্ষা বাঁধের ৯টি স্থানে ভেঙে ফুলগাজী ও পরশুরামের ১৬টি গ্রাম প্লাবিত হয়। এ সময় ওই এলাকার ফসলি জমি, রাস্তা-ঘাট, মাছের খামার ও বাড়ি-ঘরে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম জানান, ফুলগাজী পরশুরাম ও ছাগলনাইয়ায় অন্তত ২৫৪টি পুকুরে বন্যার পানি ঢুকে মাছ ভেসে গেছে। এতে করে ক্ষতির মুখে পড়েছে ৩টি উপজেলার ৩৫০ মৎস্য চাষি।
তিনি জানান, বন্যায় মাছ, পুকুরের পাড় ও খামারের আসবাবপত্রসহ ৮১ লাখ ৫৫ হাজার টাকার ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ছাগলনাইয়া উপজেলায় ৩০ লাখ ৫২ হাজার, ফুলগাজীতে ২৬ লাখ ও পরশুরামে ৫ লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে। জেলায় ৫৮ দশমিক ৫৩ মেট্টিক টন মাছ ও ২২ লাখ ১৪ হাজার মাছের পোনা খামার থেকে চলে গেছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানানো হয়, সম্প্রতি অতিবৃষ্টি ও উজানের পানিতে পাহাড়ি ঢলে বাঁধ ভাঙার কারণে ফেনীর ফুলগাজী ও পরশুরামে ১৪৪ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষয়-ক্ষতিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এর মধ্যে আউশ ২৫ হেক্টর, আমন বীজতলা ৮৪ হেক্টর ও আমন ১৮ হেক্টর।
এছাড়াও ১৭ হেক্টর শরৎকালীন সবজি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এখন কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা প্রকৃত ক্ষতি নিরুপণ করতে কাজ করছেন।
তিনি জানান, ফুলগাজীতে ৪০ হেক্টর আমন বীজতলা ও ১০ হেক্টর শীতকালীন সবজি পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। পরশুরামে আউশ ২৫ হেক্টর, আমন ১৮ হেক্টর, বীজতলা ৪৪ হেক্টর ও ৭ হেক্টর শীতকালীন সবজি ক্ষেত পানিতে তলিয়েছে।
বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও করণীয় সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে ফেনীর স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রকৌশলী কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে কোনো কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়নি বলে জানানো হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলী জহির উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন প্রকল্প নামে ৮২৫ কোটি টাকার প্রস্তাবিত প্রকল্পের মধ্যে নদী খনন, ব্রিজ নির্মাণ, মুহুরী নদীর বাংলাদেশ (ফেনী) অংশে ৯২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ, বাঁকা অংশ সোজাকরণ, লুপ, বেড়িবাঁধের রাস্তা পাকাকরণসহ সবগুলো কাজের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে ৩৫০ কোটি টাকা।
রাশেদুল হাসান/এমএএস/এমকেএইচ