দেশজুড়ে

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ভোগান্তি দেখেও দেখে না কর্তৃপক্ষ

পদ্মার তীব্র স্রোতে ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত দৌলতদিয়া ঘাট। এ ঘাটটি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন ও লাখ লাখ যাত্রী ফেরিতে নদী পারাপার হলেও স্থায়ীভাবে ঘাট সংস্কারে কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ নেই। একদিকে ভাঙন ঝুঁকি অপরদিকে নদী পারের অপেক্ষায় থাকা পণ্যবাহী ট্রাকের দীর্ঘ সারি। সবদিকেই শুধু ভোগান্তি। বছরের পর বছর এসব ভোগান্তি পোহাতে হলেও কর্তৃপক্ষ যেন কিছু দেখেও দেখে না।

পদ্মার তীব্র স্রোত ফেরিঘাটগুলোর উপর প্রতিনিয়ত আঘাত হানছে। ফলে ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে ঘাটগুলো। এমন পরিস্থিতিতে শুধু বালুর রস্তা ফেলেই ঘাট রক্ষার কাজ করে যাচ্ছে বিআইডব্লিউটিএ।

জানা গেছে, গত বছরের বর্ষা মৌসুমে পদ্মার তীব্র স্রোতে দৌলতদিয়া প্রান্তের ১ ও ২নং ফেরি ঘাটসহ ঘাট এলাকার প্রায় ৫ শতাধিক বাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে যায়। ভাঙনের প্রায় ১০ মাস হতে চললেও ঘাট দুটি এখনও সচল করতে সক্ষম হয়নি কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে দৌলতদিয়া প্রান্তের ৬টি ফেরিঘাটের মধ্যে ৪টি ঘাট সচল রয়েছে। যে ৪টি ঘাট সচল রয়েছে সেগুলোও ভাঙন হুমকিতে রয়েছে। ভাঙন রোধে ঘাটগুলোতে পানি বৃদ্ধির আগে থেকেই বালুর বস্তা ফেলছে বিআইডব্লিটিএ।

এদিকে পদ্মার তীব্র স্রোতের বিপরীতে পাল্লা দিয়ে চলতে পারছে না এ রুটে চলাচলকারী ফেরিগুলো। নদী পারাপারে সময় লাগছে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দ্বিগুন। ফলে দৌলতদিয়া প্রান্তের সড়কে আটকা পড়ছে শত শত পণ্যবাহী ট্রাক। দিনের পর দিন অপেক্ষার পর ফেরির নাগাল পাচ্ছে ট্রাকগুলো। এ সময় সড়কে আটকে থেকে চরম ভোগান্তী পোহাতে হয় চালকদের। এছাড়া সময় মতো মালামাল পরিবহন করতে না পেরে গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। শীত ও বর্ষায় সব সময়ই ট্রাকচালকদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

ট্রাকচালকরা বলেন, দিনের পর দিন তাদের সড়কে সিরিয়ালে আটকে থাকতে হচ্ছে। এই এলাকায় বাথরুম নেই, খাবারসহ কোনো ব্যবস্থাও নেই। চার-পাঁচ কিলোমিটার দূরে গিয়ে বাথরুম, গোসল ও খাবার খেয়ে আসেন। এছাড়া মালিক পক্ষ বাব বার তাদের মালের জন্য ফোনো করছে। সঠিক সময়ে মালামাল পরিবহন না করতে পরে তাদের অনেক খরচ বেড়ে যাচ্ছে। এতে করে লোকসানের মুখে পড়ছেন তারা।

তারা বলেন, শীতের সময় কুয়াশা, গরমে নাব্য সংকট ও বর্ষায় স্রোতে ফেরি চলাচল সমস্যা নতুন না। কিন্তু কর্তৃপক্ষ এটা নিয়ে ভাবেই না। যদি ভাবতো তাহলে তাদের কষ্ট দূর হত। আসলে এখানে পদ্মা দ্বিতীয় সেতুর বিকল্প নেই।

বিআইডব্লিউটিএ আরিচা অঞ্চলের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম বলেন, এখন পর্যন্ত ঘাট পরিস্থিতি ভালো আছে। তারপরও বিকল্প হিসেবে বাইপাস থেকে একটি সংযোগ সড়কের কাজ করছেন। যদি লঞ্চ বা ফেরি ঘাটের কোনোটিতে সমস্যা দেখা দেয় তাহলে তাৎক্ষণিক ঘাট সেখানে স্থানান্তর করা হবে।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া সহকারী ঘাট ব্যবস্থাপক মাহবুব হোসেন জানান, স্রোতের কারণে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। নদী পারের অপেক্ষায় দৌলতদিয়া প্রান্তের সড়কে প্রায় দেড় শতাধিক ও গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় কিছু পণ্যবাহী ট্রাক সিরিয়ালে রয়েছে। বর্তমানে ছোট-বড় ১৩টি ফেরি চলাচল করছে।

রুবেলুর রহমান/এফএ/পিআর